নজর২৪, সিলেট- সিলেটে আগামী ১২, ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীমের মাহফিল উপলক্ষ্যে তৈরি করা গেট ও তোরণ ভাংচুর করেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীরা।
সিলেটের ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিল থেকে আজ রোববার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের পাশে নির্মিত সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর)-এর ওয়াজ মাহফিলের জন্য নির্মিত একটি গেইট ভাঙচুর করে ছাত্রলীগ নেতারা একটি তোরণের কাপড় ছিড়ে তা জ্বালিয়ে দিয়েছে বলেও জানিয়েছে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
জানা গেছে, সিলেট নগরীর চৌহাট্টাস্থ আলিয়া মাদরাসা মাঠে আগামী ১২ থেকে ১৪ ডিসেম্বর তিন দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেছে ‘বাংলাদেশ মুজাহিদিন কমিটি, সিলেট বিভাগ’। এ কমিটি মূলত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাথে সংশ্লিষ্ট।
ওই মাহফিলের প্রধান অতিথি চরমোনাই পীর। মাহফিলকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজকরা বিভিন্ন স্থানে তোরণ বসিয়েছেন; ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার লাগিয়েছেন। নগরীর চৌহাট্টা এলাকায়ও ব্যানারসহ একাধিক তোরণ বসানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে আজ সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল করে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠ থেকে ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় আসার পর ছাত্রলীগের কর্মীরা চরমোনাই পরের মাহফিলের ওই তোরণের একটি ব্যানার টেনে নামিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এছাড়া আরেকটি ব্যানার তোরণ টেনে ছিঁড়ে ফেলেন।
দীর্ঘদিন ধরে সিলেটে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। ঘটনার বিষয়ে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটির সভাপতি আব্দুল বাছিত রুম্মান কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেন। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষারকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় আমরা পুলিশে অভিযোগ দাখিল করবো।’
তবে গেইট ভাঙচুরের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম মিঞা।
