বাজারমূল্য বেশি: সরকারি গুদামে ধান-চাল দিতে অনীহা

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে চলতি আমন মৌসুমে সরকারি মূল্যের চেয়ে বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় ধান-চাল কেনায় সাড়া মিলছে না। মিলাররাও গুদামে চাল সরবরাহে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

 

গত বোরো মৌসুমের ন্যায় আমন মৌসুমেও গুদামে চাল সরবরাহ করে লোকসানের আশংকা করছেন মিলাররা। এ কারণে খাদ্য বিভাগ সময় বৃদ্ধি করলেও চাল কল মালিকেরা গুদামে চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন না। ফলে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে খাদ্য বিভাগ। ৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ২ জন মিল মালিক খাদ্য বিভাগের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

 

এদিকে চলতি আমন মৌসুমে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ১৭৮ জন লাইসেন্সধারী চালকল মালিককে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে খাদ্য বিভাগ। গত বোরো মৌসুমে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেও গুদামে চাল না দেওয়ায় ৮৯ এবং চুক্তি না করায় ৮৯ জন মিল মালিককে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

 

শেরপুর উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, এ উপজেলায় ৪৫৩টি লাইসেন্সধারী চালকল রয়েছে। এর মধ্যে আমন চাল সরবরাহের জন্য ২৮০ জন চালকল মালিকের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট চালকল মালিকের নামে চালের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ২টি সরকারি খাদ্য গুদামে চালকল মালিকদের কাছ থেকে ১১ হাজার ৮৮৭ মেট্রিক টন চাল এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ১ হাজার ৪৫২ মেট্রিক টন আমন ধান কেনা হবে। কৃষকদের মধ্য থেকে লটারি করে এবার ধান সংগ্রহ করা হবে। একজন কৃষক গুদামে সর্বোচ্চ ৬ মেট্রিকটন ধান দিতে পারবেন। এবার ১ কেজি ধানের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা।

 

শেরপুর উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আজিম বয়লার এন্ড রাইচমিলের সত্বাধিকারী মোঃ হানিফ উদ্দিন জানান, সরকার এক কেজি সিদ্ধ চাল সরবরাহের জন্য চালকল মালিকদের ৩৭ টাকা এবং এক কেজি আতপ চাল সরবরাহের জন্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছেন। যা বর্তমান বাজার মূল্যের সাথে অসংগতিপূর্ণ। তিনি জানান সরকার ধান ও চালের যে দাম নির্ধারণ করেছেন তাও অসংগতিপূর্ণ। সরকারি ভাবে প্রতিকেজি ধান ২৬ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রতিকেজি সিদ্ধ চালের মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৪১/৪২ টাকা।

 

শেরপুর উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল কুদ্দুস জানান, সারাদেশের চালকল মালিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠনের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে শেরপুরে কোন মালিক সরকারে সাথে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেনা। তিনি জানান, সরকার ধানের দামের সাথে চালের দাম সমন্বয় করে চালের দাম বৃদ্ধি করলেই কেবল চালকল মালিকরা সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হবে।

 

শেরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেকেন্দার রবিউল ইসলাম জানান, সরকার সময় বৃদ্ধি করায় আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবেন চালকল মালিকরা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুদামে ধান ও চাল সরবরাহ করা যাবে।

 

তিনি জানান, এ পর্যন্ত শেরপুর উপজেলায় ২৮০ জন লাইসেন্সধারী মিলারের মধ্যে মাত্র ২ জন মিলার তাদের সাথে চুক্তি বদ্ধ হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *