রংপুর ব্যুরো- রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় গাড়ি আটকিয়ে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পাওয়ায় গাড়ি থেকে নামিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব হোসেন সুমনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের কোতয়ালী থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ধাপ চিকলীভাটার রওশন মিয়ার ছেলে মাহবুব হোসেন সুমন, মেডিকেল পূর্বগেট এলাকার আলতাব হোসেনের ছেলে ছোট রাসেল (২২) ও তানভীর (২২)।
পুলিশ জানায়, ২৯ নভেম্বর রাত ৯ টার দিকে হক গ্রুপের সামাজিক প্রতিষ্ঠান মানবিক সোসাইটি বাংলাদেশের জিএম রাজু আহাম্মেদের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা লালমনিরহাটে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন করে লালমনিরহাট থেকে রংপুরে ফেরার পথে রংপুর মেডিকেল কলেজের পূর্ব গেটে গাড়ির বহর পৌঁছলে ছাত্রদল নেতা সুমন তার সঙ্গীদের নিয়ে রাস্তার মাঝ খানে দাঁড়িয়ে আমাদের গাড়ি গতিরোধ করে এবং গাড়িতে সজোরে থাপ্পর এ সময় গাড়ির ড্রাইভার আলমগীর হোসেন গাড়ি থেকে নামলে কলার ধরে টেনে হেচড়ে বেদম মারধর করে।
এ সময় হক গ্রুপের জিএম রাজু আহাম্মেদ ড্রাইভার আলমগীরকে রক্ষা করতে গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে সন্ত্রাসীরা। এরপর তাদের প্রীতম নামে একটি দোকানে পিছনের রুমে নিয়ে গিয়ে আসামীরা ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী ড্রাইভার আলমগীরকে লোহার রড, কাঠের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরতর আহত করে। ড্রিল মেশিন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
রাজু আহাম্মেদ বলেন, আসামিরা আমাদের কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে হত্যা করবে বলে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মারধর করতে থাকে।
পরে কোতয়ালী থানা পুলিশকে ফোন করে বিষয়টি জানালে পুলিশ এসে ছাত্রদল নেতা সুমনসহ তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যান্য আসামীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ড্রাইভার আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মেট্রোপলিটান কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করে।
এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) রাজিফুজ্জামান ছাত্রদল নেতা সুমনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের করার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বাকি আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চলছে অন্যান্য আসামিদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান।
