বাবার ওষুধ কিনতে সকাল-সন্ধ্যা ভ্যান চালায় স্কুলছাত্রী শম্পা

নজর২৪ ডেস্ক- বছর পাচেক আগে ভ্যান চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় ডান পা ভেঙে যাওয়ার পর বাবার চিকিৎসা ও ওষুধের টাকার জন্য দেড় বছর ধরে ভ্যান চালাচ্ছে চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রী শম্পা। জামালপুর সদর উপজেলার নাকাটি গ্রামের ভ্যানচালক মো. ভাসানীর মেয়ে। শম্পা নাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

 

জানা যায়, ভাসানীর দুই মেয়ের মধ্যে শম্পা ছোট। কয়েক বছর আগে বড় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর ভ্যান চালিয়ে সংসার চলত ভাসানীর। পাঁচ বছর আগে জামালপুর শহর থেকে ভ্যান চা’লিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দু’র্ঘটনায় ভাসানীর ডান পা ভে’ঙে যায়।

 

প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পঙ্গু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করেও তার পা ঠিক হয়নি। এই চিকিৎসা করতে তার সম্পদ যা ছিল সবই শেষ। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বিছানাই তার সঙ্গী।

 

এদিকে ভাসানীর ও’ষুধের জন্য প্রতিদিন ১৫০ টাকা দরকার। বাবার ও’ষুধের টাকা সংগ্রহ করতে শম্পা বাবার ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সকাল থেকে ভ্যান চালিয়ে জোগাড় করেন বাবার ওষুধের টাকা।

 

শম্পার মা নেবুজা রাস্তার মোড়ে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবজি বিক্রি করেন। তিনি বলেন, স্বামীর চিকিৎসায় আরও ৩ লাখ টাকা দরকার। চিকিৎসকরা বলেছেন, ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করলে তার পা ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তার ৩

 

লাখ টাকা খরচ হবে। তিনি আরও জানান, তার মেয়ে জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে ভ্যান চা’লিয়ে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরে। হাত-পা প্রচণ্ড ব্য’থা করে। প্রতি রাতেই তাকে হাত-পা টি’পে দিতে বলেন। শম্পা জানান, ভ্যান চালাতে খুব ক’ষ্ট হয়। বাবার

 

ওষুধের টাকা রোজগার হলেই বাড়িতে চলে আসি। ভ্যান চালিয়ে কোনো দিন ২০০ আবার কোনো দিন ৩০০ টাকা আয় হয়। সেই টাকা থেকে বাবার ওষুধ কিনে নিয়ে আসি।

 

শম্পা বলে, প্রতিদিন সকালে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হই। ২০০-৩০০ টাকা আয় হলেই বাড়ি ফিরি। সেই টাকা দিয়ে বাবার ও’ষুধ কিনি। মেয়ের ক’ষ্টের কথা মনে করে বিছানায় শুয়ে অঝোরে চোখের পানি ফে’লেন বাবা ভাসানী। শম্পার

 

শম্পার বাবা ভাসানী বলেন, পাঁচ বছর আগে জামালপুর শহর থেকে বাড়ি ফেরার সময় স্থানীয় টিউবওয়েলপাড় মোড়ে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এই সময় তিনি ভ্যান নিয়ে ছিটকে নিচে পড়লে ডান পা ভেঙে যায়।

 

“এরপর থেকে চিকিৎসা চলছে। সবকিছু শেষ করেছি। পা ভালো করতে আরও টাকার প্রয়োজন। এখন ঘরে শুয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। মেয়েটার কষ্ট দেখে বুক ফেটে যায়। মেয়েটাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখছে।”

 

নাকাটি গ্রামের হযরত আলী বলেন, “দেড় বছর আগে শম্পা একবেলা স্কুল করে পরের বেলা ভ্যান চালাত। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ হবার পর প্রায় সারাদিন ভ্যান চালায় মেয়েটি।”

 

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সদর উপজেলা প্রশাসন পরিবারটির খবর নেবে এবং সাধ্যমত সহযোগিতার হাত বাড়াবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *