নজর২৪ ডেস্ক- যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিকারীদের মোকাবেলা করতে যুবলীগই যথেষ্ট।
তিনি বলেন, যার বাবা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজাকার ছিল, সে বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করবে- এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ভাস্কর্য এবং মূর্তির প্রভেদ যারা বোঝে না, তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আমরা জানি। ভাস্কর্যকে ইস্যু বানিয়ে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।
সোমবার চট্টগ্রামে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলমের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মামুনলকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেন নিক্সন চৌধুরী।
যুবলীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীতে আসা নিক্সন চৌধুরী এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক গত ১৩ নভেম্বর রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করেন। তার পক্ষে হেফাজতে নেতারাও ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতায় নেমে সরকারকে হুমকি দিচ্ছে।
পাল্টা হুমকির সুরে নিক্সন বলেন, “আমরা দেখতে পেলাম মামুনুল হক, উনি মঞ্চে দাঁড়াইয়া বক্তৃতা দিতে দিতে উইঠ্যা যায়। মনে হয় নাইমা পড়বো। কারে চ্যালেঞ্জ করে? শেখ হাসিনারে চ্যালেঞ্জ করে!
“আরে শেখ হাসিনা তো অনেক উপরের বিষয়। আজকে সারা বাংলাদেশে যুবলীগের সাথে লইড়া দেখেন। আসেন, দ্যাখেন, খেলা হবে।”
নিক্সন বলেন, “বঙ্গবন্ধুর এই যুবলীগ। শেখ ফজলে শামস পরশের যুবলীগের সাথে মোকাবেলা করার এক মিনিট ক্ষমতা আপনার নাই। শেখ পরশ এবং নিখিল ভাইর নেতৃত্বে যুবলীগ যদি মাঠে নামে, ওস্তাদ দৌড়াইয়া কুল পাবেন না। তাই আমার নেত্রীরে চ্যালেঞ্জ করার আগে নেত্রীর সন্তানদের সাথে একটু বুইঝ্যা নেন। তাই এরকম ধমক দিয়েন না।”
নিক্সন চৌধুরী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য প্রতীকী কিছু নয়। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশের স্বাধীনতার বিষয় জড়িত। দেশের কোটি কোটি মানুষের আবেগ-ভালোবাসা মিশ্রিত।
নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সাথে ফাঁপরবাজি কইরেন না। কোন দেশের টাকা খাইছেন, হঠাৎ কইরা চাঙা দিয়া উঠছেন। ওইসব দেশের দালালি বন্ধ করেন, এটা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশ।’
মামুনুল হককে তেলাপোকার সাথে তুলনা করে নিক্সন বলেন, ‘আরে মিয়া তেলাপোকাও পাখি, আর আপনিও মানুষ। যদি সাহস থাকে তাহলে আসেন মাঠে আসেন। মাঠে খেলা হবে। আমাদের ভয় দেখাবে না না। আমাদের মাথা থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত পুরাটাই কইলজা।’
তিনি বলেন, ‘যুবলীগ যদি মাঠে নামে ওস্তাদ দৌড়াইয়া কূল পাবেন না। তাই আমার নেত্রীরে চ্যালেঞ্জ জানানোর আগে নেত্রীর সন্তানদের সঙ্গে একটু বুইঝা নেন। তাই এমন ধমক দিয়েন না। দালালি করেন অন্য দেশের। দালালি কইরা মাল খাইছেন, হেই মাল খাইয়া এহন ভাব নেন, চ্যালেঞ্জ করেন।’
নগর যুবলীগ আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চুর সভাপতিত্বে উত্তর জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেদুল আলমের পরিচালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, নগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, বন ও পরিবেশ সম্পাদক মসিউর রহমান চৌধুরী, যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, সংবর্ধিত কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বদিউল আলম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান, দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথী চৌধুরী, নগর যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ প্রমুখ।
