রাজিব আহমেরদ রাসেল, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নিয়োগবিধি সংশোধন করে বেতন বৈষম্য নিরসন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদাসহ চারদফা দাবিতে কর্মবিরতি অব্যাহত রেখে অবস্থান কর্মসুচি পালন করছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা। বাংলাদেশ হেলথ এ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন এর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে ২৬ নভেম্বর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে তারা এ কর্মসুচি পালন করে আসছেন।
রবিবার (২৯ নভেম্বর) তৃতীয় তম দিনের কর্মসুচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন, হেলথ এ্যাসিস্টেন্ট এসোসিয়েশন শাহজাদপুর উপজেলা শাখার সভাপতি দিলারা জাহান কলি, সেক্রেটারী রায়হান আলী ও মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন খান প্রমূখ। বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ২২ বছরেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা আশাহত হয়েছেন। এবার দাবি অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের কর্মসুচি অব্যাহত রাখবেন বলেও ঘোষনা দেন। তাদের দাবি হলো- নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ক্রমানুসারে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ও স্বাস্থ্য সহকারীদের বেতন গ্রেড ১৬ তম থেকে যথাক্রমে ১১, ১২ ও ১৩তম গ্রেডে উন্নীতকরণ।
স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্ম বিরতির কারনে হুমকির মুখে পড়েছে চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন। আগামী ৫ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া এ ক্যাম্পেইনে সারা দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কর্মসুচি বন্ধ থাকবে। আশংকা করা হচ্ছে হাজার হাজার শিশুর হাম-রুবেলার টিকা না পাওয়ার। এতে বিভিন্ন এলাকায় হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবায় বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
উল্লেখ্য ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল চালু করা হয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসুচি (ইপিআই)। এ কর্মসুচির আওতায় সারাদেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রের কর্মসুচির দায়িত্ব স্বাস্থ্য সহকারীদের উপর ন্যস্ত করা হয়। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য সহকারীরা শিশুদের ১০ টি মারাত্নক সংক্রমিত রোগের টিকা দিয়ে থাকেন।
