মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইসকন, এদেশে তাদের কার্যক্রম চলবে নাঃ বাবুনগরী

নজর২৪, ঢাকা- ইসকনের কার্যকলাপ বন্ধের দাবি জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, বর্তমান মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইসকন। সরকারের কাছে দাবি ইসকনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তারা এদেশে অশান্তি সৃষ্টি করতেছে। বিশৃংখলা সৃষ্টি করতেছে। এদেশের শান্তির পরিবেশ নষ্ট করতেছে।

 

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) রাতে হাটহাজারী সরকারি পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চট্টলার ইসলামিক সংগঠন ‘আল আমিন সংস্থা’ আয়োজিত তিন দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ‘যদি প্রিয় নবীর শানে কোন বেয়াদবি করা হয়, কোন রকম অবজ্ঞা, অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয় এদেশের মুসলমানরা তাদের জিহ্বা কেটে ফেলবে। তিনি বলেন, যতক্ষনণ ফ্রান্সের ম্যাক্রো সকল মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চাইবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত এদেশে ফ্রান্সের দূতাবাস থাকতে পারবেনা।

 

দূতাবাস বন্ধ করে দিতে হবে এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে বহিস্কার করতে হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদে ম্যাক্রোর বিরুদ্ধে ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করতে হবে।’

 

তিনি, প্রধানমন্ত্রী আমরা আপনাকে ভালোবাসি। আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালোবাসি। আমরা আপনার দুশমন নই। আমাদের দুশমন মনে করবেন না। আপনার পেছনে যে নাস্তিক মুরতাদ ঘাপটি মেরে বসে আছে তারাই আপনার দুশমন।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কোনো আলেম ওলামারা মারেন নাই, মেরেছে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে থাকা লোকজন। আমি আশংকা করছি আপনার পেছনে থাকা নাস্তিক মুরতাদেরা আপনার ক্ষতি করবে।

 

হেফাজত আমির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মদিনার সনদে দেশ চলবে। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। মদিনার সনদে যদি দেশ চলে, ইসলামবিরোধী কোনো কাজ হতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ প্রধানমন্ত্রী (ভাস্কর্য বসাতে) দেবে না। মদিনার সনদে যদি দেশ চলে, কোনো ভাস্কর্য থাকতে পারে না। মদিনায় কি কোনো ভাস্কর্য আছে? ভাস্কর্য- এটা শরিয়তসম্মত নয়।’

 

বাবুনগরী বলেন, ‘কোনো পার্টি বা নেতার নাম বলছি না, যার ভাস্কর্য হোক না কেন। আল্লাহর কসম, কেউ যদি আমার আব্বার ভাস্কর্য বসায়, আমি সর্বপ্রথম সেই ভাস্কর্য টেনে-হিঁচড়ে ফেলে দেব। যেকোনো দল ভাস্কর্য বসাবে, আমার আব্বার ভাস্কর্যও যদি স্থাপন করা হয়, সেটা শরিয়ত সম্মত হবে না। টেনে-হিঁচড়ে ফেলে দেব।’

 

এসময় কাদিয়ানীদের অমুসলমান ঘোষণার দাবি জানিয়ে অল্লামা বাবুনগরী বলেন, কাদিয়ানীরা নবীর শত্রু, নবীর দুশমন। কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলমান ঘোষণা করতে হবে। কাদিয়ানীরা মুসলমান নয়। তাদের সঙ্গে মুসলমানদের বিয়ে হতে পারে না। তাদেরকে মুসলমানদের কবরে দাফন করা যাবে না।

 

তাদেরকে মুসলমানদের মতো ভিসা দিয়ে মক্কা মদিনায় যেতে দেওয়া যাবে না। আমি ৮১ জন আলেমকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আমি বলেছি কাদিয়ানীরা কেবল ইসলামের শত্রু নয়, এদেশের স্বাধীনতারও শত্রু।

 

জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, আমরা মুসলমান, ইসলাম আমাদের ধর্ম, মহান আল্লাহ তায়া’লা আমাদের প্রভু, হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কলিজার টুকরা, মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারিম আমাদের একমাত্র সংবিধান। যারা এসবে বিশ্বাসী তারা মুসলমান ও আস্তিক। আর যারা এসবে বিশ্বাস করে না তারা নাস্তিক ও বেঈমান।

 

আমীরে হেফাজত বলেন, বর্তমান সমস্ত বিশ্বে আস্তিক আর নাস্তিকের লড়াই চলছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে কোনো লড়াই নেই। শুক্রবারের জুমার নামাজে তারাও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি পরস্পরের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন হয়, মুসলমান হিসেবে সকলেই ভাই ভাই। কিন্তু আস্তিক আর নাস্তিক কখনো এক হতে পারে না। বিশ্বজুড়ে চলা আস্তিক আর নাস্তিকের এ লড়াইয়ে নাস্তিকদেরকে দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে।

 

তিনি আরো বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কোনো পার্টি বা দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে না। হেফাজতে ইসলাম আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল সা:-এর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। হেফাজতে ইসলাম সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও ঈমান-আকিদাভিত্তিক একটি সংগঠন। মসজিদের ইমাম মুসল্লিগণ, মাদরাসা, স্কুল-কলেজ, ভার্সিটির ধর্মপ্রাণ ছাত্র-শিক্ষক ও দেশের সকল পরহেজগার মুসলমান হেফাজতের কর্মী ও সদস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *