ঢাকা    ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

উত্তেজনার মধ্যেই যেভাবে চট্টগ্রামে আসেন মামুনুল হক, অবশেষে জানা গেল আদ্যোপান্ত

প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২০

উত্তেজনার মধ্যেই যেভাবে চট্টগ্রামে আসেন মামুনুল হক, অবশেষে জানা গেল আদ্যোপান্ত

নজর২৪ ডেস্ক- দিনভর হেফাজতে ইসলামের নেতারা চট্টগ্রামে আসার দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত মামুনুল হক হাটহাজারীতে নির্ধারিত তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে যাননি।

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের হুমকিদাতা মামুনুল হককে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) একাধিক স্থানে বিক্ষোভ করেন চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

 

আরও পড়ুন- বাবুনগরী, মামুনুলদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অবশেষে মাঠে নামলো ৬০ সংগঠন

 

এর মধ্যেই হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক হাটহাজারীতে এসে পার্বতী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আল আমিন সংস্থার আয়োজিত তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে উপস্থিত হচ্ছেন, এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মাহফিলে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত হননি।

 

যদিও এরআগেই মধ্যরাতে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) ভোরবেলা চট্টগ্রামে এসে পৌঁছান হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। এরপর হাটহাজারী মাদ্রাসায় গেলেও শেষ পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত মাহফিলে যোগ দেননি মামুনুল হক। মাহফিলে যোগ না দিয়েই ঢাকায় ফিরেছেন তিনি। মামুনুল হকের সহকর্মীর বর্ণনায় উঠে এসেছে এর আদ্যোপান্ত।

 

আরও পড়ুন- ওয়াজ মাহফিলে ‘উচ্চশব্দ’ হলেই বন্ধের নির্দেশ!

 

জানা যায়, মামুনুল হক সম্পাদিত মাসিক পত্রিকা ‘রাহমানী পয়গাম’-এর সহকারী সম্পাদক এহসানুল হক চট্টগ্রামে আসার পথে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের সফরসঙ্গী ছিলেন।

 

পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মামুন সাহেবের মাহফিল বেশ কিছুদিন ধরে বাতিল হচ্ছে। এরপরও অঘোষিতভাবে তিনি কিছু মাহফিলে অংশ নিয়েছিলেন। অনেক কারণেই আল আমিন সংস্থার মাহফিলটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রশাসন বাধা দেবে— এটা জানা কথা। সন্ধ্যার পর থেকেই প্রশাসন থেকে বিভিন্ন রকম ফোন আসতে থাকলো। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সমাবেশের ভাষণগুলো মামুন সাহেব দেখলেন।’

 

আরও পড়ুন- মামুনুল হককে নিক্সন চৌধুরীর চ্যালেঞ্জ, ‘আসেন, খেলা হবে’

 

‘আমি জিজ্ঞেস করলাম (মামুনুল হককে) এই রিস্কের মধ্যে যাবেন? তিনি বলেন, অবশ্যই যাবো। তিনি পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সিদ্ধান্ত নিলেন রাতেই রওনা হয়ে যাবেন।

তিনি তখন নানাজান শাইখুল হাদীস রহ. এর কথা স্মরণ করে বলছিলেন, আব্বাকে নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কত পড়েছি। এমন উৎকন্ঠায় কত সময় পার করেছি। এক পথে বাধা এসেছে, আরেক পথে গিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। আমার বিরুদ্ধে এত জলদি এসব শুরু হয়ে গেলো!’

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুরুর দিকের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তখনও বিভিন্ন মহল থেকে ফোন ও ম্যাসেজ অব্যাহতভাবে আসছেই। তবুও তিনি অটল। হাটহাজারীর পথে রওনা হবেন। এশার নামাজ পড়লাম।

 

হালকা খাবার খেয়ে তিনি যখন গাড়িতে উঠবেন— আমাদের কেউ বললেন, সফর তো দুই দিনের? তিনি বললেন, না, সফর রাতেও শেষ হয়ে যেতে পারে। আবার দুইদিনও লাগতে পারে। আর যদি আল্লাহ কবুল করে ফেলেন তাহলে তো হলোই। এই কথা বলে আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা করলেন হাটহাজারীর পথে।’

 

আরও পড়ুন- হেফাজতকে বোঝাতে চাই না, প্রয়োজনে ২০১৩ সালে ফিরে যেতে চাই: মায়া

 

ঢাকা থেকে ভোরবেলা মামুনুল হকের চট্টগ্রামে পৌঁছার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভোরে তিনি চট্টগ্রাম পৌছান। ততোক্ষণে আরও বিভিন্ন জায়গা থেকে চলে আসার বার্তা আসতে থাকলো। সর্বশেষ আমাদের নিজেদের মহল ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ থেকেও পরামর্শ আসলো— মাহফিলে যোগ না দিলেই ভালো হয়।

 

একটা মাহফিলের জন্য এভাবে সংঘাতে জড়ানো ঠিক হবে না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশংকা আছে। মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে এই কথা সামনে আসার পর আর কিছু করার ছিলে না। তিনি মাহফিলে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এবং ঢাকার পথে রওনা হন।’

 

আরও পড়ুন – ‘বাংলাদেশ থেকে হেফাজতের মৌলবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে’