সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকীর ‘বাঁধা’

রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর গাড়ি বহরে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এ সময় দুই ভাইয়ের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এছাড়াও একটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল-সিলিমপুর সড়কের দশকিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

দুই ভাইয়ের অনুসারীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে ১৯ গাড়ি বহর নিয়ে আতিয়া মাজার জিয়ারত করতে যাচ্ছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। লতিফ সিদ্দিকীর গাড়ি বহরটি ঘটনাস্থলে পৌঁছলে মুরাদ সিদ্দিকী তাদের বাঁধা দেন। এছাড়াও লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকদের মারধর করেন মুরাদ সিদ্দিকী। ঘটনাস্থলে লতিফ সিদ্দিকী পৌছলে মুরাদ সিদ্দিকী চলে যাওয়া সময় তাদের দুই ভাইয়ের সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে মুরাদ সিদ্দিকীর বহরে থাকা পাঁচটি গাড়ির মধ্যে একটি মাইক্রোবাসের সামনের গ্লাস ভাঙা হয়। পরে মুরাদ সিদ্দিকী অনুসারীদের নিয়ে তার টাঙ্গাইল শহরের বাসায় চলে যান। পরবর্তীতের লতিফ সিদ্দিকী আতিয়া মাজার জিয়ারত করে কালিহাতীর এলেঙ্গাতে চলে যান।

অভিযোগ অস্বীকার করে মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, আমি, কাদের ভাই ও লতিফ ভাই মাজার জিয়ারত শেষে বাসায় চলে এসেছি। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

অপরদিকে, এ বিষয়ে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, বিএনপির নেতা কর্মীরা ঘোষণা দিয়েছেন অক্টোবর মাসে এই নেতাকর্মীদের উৎখাত করবে। আমার বিবেক থেকে এটা প্রতিহত করতে হবে। আমি তো সন্ত্রাস কোন কালেই করি নাই। এটা প্রতিহত করতে হলে জনগনের কাছে যেতে হবে। সে জন্য এসেছি কালিহাতীর জোকারচর ও গোহালিয়াবাড়ী এলাকায়। কোন সভা সমাবেশ না করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে এসেছি। নেতাকর্মীদের বলছি, নিজেদের মধ্যে ঐক্য রাখো এবং এই অপশক্তি ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে মোকাবেলা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিবেন চৌদ্দ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেড়ে তো বেল তলা একবারই যায়। ২০১৮ সালে নির্বাচনে এসে আমি তা বুঝেছি। তখন আমার ৮০ ভাগ ভোট ছিল। আমি খুনাখুনির মধ্যে থাকি না বলে চলে গেছি। আমি কোন নির্বাচনের জন্য আসি নাই।

মুরাদ সিদ্দিকীর বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে আমার ৪/৫ জন ছেলেকে সে মারধর করছে সে বিষয়ে নালিশ করছে। মুরাদ সিদ্দিকী বিভিন্ন জনকে মোবাইলে হুমকি দিচ্ছে, সেটি আমি জানি। এলেঙ্গার মেয়রকে সে ভয় দেখাচ্ছে। আমি তাকে কখনও রাজনীতিক নেতা মনে করি নাই। সে কন্ট্রাকটার ও সন্ত্রাসী। এর বাইরে আমি কোন চিন্তা করি নাই। রাজনীতি ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিল আজাদ সিদ্দিকী। আমার জানা মতে তিনি কোন দিন আওয়ামী লীগও করে নাই, ছাত্রলীগও করে নাই। তাই ওকে নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নাই।

এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা (পিপিএম) জানান, ঘটনাস্থলে তিনি নিজে ছিলেন। হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

এসএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *