নাতির ধর্ষণের দায়ে বৃদ্ধের সঙ্গে শিশুর বিয়ে: তদন্তের নির্দেশ

নজর২৪, ঢাকা- জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে নাতির ধর্ষণের দায়ে ৮৫ বছর বৃদ্ধ দাদার সঙ্গে ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের কিশোরীর বিয়ে দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করে রোববারের (২৯ নভেম্বর) মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 

জামালপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং দেওয়ান গঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী রোববারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রকাশিত খবর নজরে আসার পর বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের ভার্চুয়াল হাই কোর্টে বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

 

বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবর নজরে আনেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আল মাহমুদ বাশার। পরে তিনি বলেন, “জামালপুরে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের সাথে ১২ বছরের একটি শিশুর বিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এসেছে। সেটি আমরা নজরে নিয়ে আসছিলাম।

 

“মহামান্য আদালত জামালপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং দেওয়ানগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলেছেন ঘটনাটি তদন্ত করে আগামী রোববারের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে আইনানুগ যেসব দায়িত্ব তাদের পালন করার কথা, তা তাদের পালন করতে বলেছেন।”

 

তিনি বলেন, “৮৫ বছরের বৃদ্ধকে দোররা মেরে, জোর করে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাতাব্বররা এই শিশুকে যে বিয়ে দিয়েছে সেটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আগামী রোববার প্রতিবেদন দেখে আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দিবেন।”

 

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউপির বয়ড়াপাড়া গ্রামের একটি মহিলা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই এলাকার সুরমান আলীর বখাটে ছেলে শাহিনের শারীরিক সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে কবিরাজি চিকিৎসায় মেয়েটির গর্ভপাত ঘটানো হয়।

 

বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ১৬ নভেম্বর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্থানীয় মাতব্বররা এ বিষয়ে সালিশ বৈঠক করেন। সালিশে ধর্ষক শাহিনকে ১০টি দোররা মেরে তার কর্মকাণ্ডের দায় চাপিয়ে দেওয়া হয় ৮৫ বছরের বৃদ্ধ দাদার ওপর। পরে দাদা মহির উদ্দিনের সঙ্গে ভুক্তভোগী ১১ বছরের কিশোরীর বিয়ে দেন স্থানীয় মাতব্বরেরা।

 

৮৫ বছরের বৃদ্ধ মহির উদ্দিন ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না, চোখেও ঝাপসা দেখেন। তিনি সাত সন্তানের বাবা। তার দুই স্ত্রী অনেক আগে মারা গেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় চর আমখাওয়া ইউপি সদস্য নাদু মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।

 

চর আমখাওয়া ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন নাদুও বিষয়টি স্বীকার করে বাংলানিউজকে জানান, মুরব্বিদের নিয়ে সালিশ করা হয়। সালিশে অনৈতিক কাজ করায় শাহিনকে ১০টি দোররা মারা হয়। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্ষকের দাদার সঙ্গে কিশোরীটির বিয়ে দেওয়া হয়।

 

চর আমখাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান আকন্দও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *