অবশেষে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকারের অর্থ বিভাগ। এ জন্য চাকরি (বেতন-ভাতাদি) আদেশ-২০১৫ সংশোধন করা হচ্ছে। বেতন-ভাতাদি আদেশের ৩ ধারায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা আছে।

সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী শুরুতে বেতন বৃদ্ধির বিদ্যমান হার পরিবর্তন করা হবে। এরপর ১ থেকে ২০ গ্রেড পর্যন্ত সমান হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব আসতে পারে। এতে সব গ্রেডের বেতন সমন্বয় হবে। আসছে বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হচ্ছে ৬.৫ শতাংশ।

গত এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল সরকারি হিসাবে ৯.২৪ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে সরকারি কর্মীদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ বাড়লে বাড়তি খরচ হতে পারে চার হাজার কোটি টাকা। ২০১৫ সালে যখন সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়, তখন মূল্যস্ফীতি ৩ থেকে ৫ শতাংশ ধরে পরবর্তী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ঠিক করা হয়।

তবে এখন মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করতে ভারতসহ কয়েকটি দেশের বেতনকাঠামো পর্যালোচনা করছে অর্থ বিভাগ। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের বেতনবৈষম্য সহনীয় করার বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে। এসব কাজ শেষ করে আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

তবে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে বেতন বৃদ্ধির সব কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। কারণ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করতে বেতন-ভাতাদি আদেশসহ আরো কিছু বিধি সংশোধন করতে হবে। এ জন্য অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে। বাস্তবায়ন অনুবিভাগ এসংক্রান্ত প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে নতুন বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয় করতে হবে। কারণ প্রতিবছর কর্মচারীদের যে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) হয়, সেখানে কারো ৩.৭৫ শতাংশ, কারো ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

অর্থ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রাথমিক ঘোষণা দিতে পারেন। এরপর বেতন বৃদ্ধির কাজ চূড়ান্ত করা হবে। কর্মচারীদের জন্য যে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে তা বাজেট ঘোষণার পরও মেটানো যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাস্তবায়ন) আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আমরা সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশনা দেবেন সেভাবে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ পাঠানো হবে।’

তিনি বলেন, বেতন-ভাতাদি আদেশের বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তা সংশোধন করা হতে পারে।

অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু দাইয়ান মোহম্মদ আহসানউল্লাহ বলেন, মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় অবশ্যই কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বাজেটে বেতন-ভাতার জন্য প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা সহজেই সমন্বয় করা সম্ভব। বাজেট ঘোষণার ছয় মাস পর হলেও অতিরিক্ত ওই অর্থ সমন্বয় করা যাবে। কারণ অন্য অনেক খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ থাকে। সেই অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থ ফের উপযোজন করার নিয়ম আছে। কালের কন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *