জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে হেফাজতকে প্রমাণ দিতে বললেন মাওলানা জিয়াউল

নজর২৪, ঢাকা- ভাস্কর্য ও মূর্তি শব্দের ভুল ব্যখ্যা দিয়ে যারা অপরাজনীতির চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ধর্মীয় সংগঠন বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট।

 

সংগঠনটি বলছে, ‘..মূর্তি ও ভাস্কর্য শব্দের অর্থকে ভুল ব্যখ্যা করে মাঠ গরম করার চেষ্টা করবেন না। কারণ এ দেশের মানুষ আপনাদেরকে ৭১ সালেও চিনতে ভুল করেনি, এখনও করবে না।… প্রাণীর ভাস্কর্য মানেই শিরক নয়। বিশ্বের অনেক ইসলামি দেশেই ভাস্কর্য রয়েছে।

 

…. হেফাজতিরা যদি ভাস্কর্য বিরোধীই হয়, হাটহাজারীর কাছেই খাগড়াছড়ি শহরের দ্বারপ্রান্তে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহেবের একটি বৃহদাকার ভাস্কর্য রয়েছে। মানুষের এই মূর্তি ভেঙে এরা প্রমাণ করতে পারেন এ বিষয়ে তারা কতটা সিরিয়াস।’

 

রোববার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান এ সব কথা বলেন। ‘মহান আল্লাহ- পবিত্র কুরআন- মহানবীকে (সা.) কটুক্তির প্রতিবাদের সীমারেখা এবং আমাদের করণীয় ও ভাস্কর্যকে মূর্তি পূজার সঙ্গে তুলনা করার পোস্টমর্টেম’ শীর্ষক ওই সংবাদ সম্মেলনে কুরআন ও হাদীসের আলোকেও বিভিন্ন ব্যখ্যা দেওয়া হয়।

 

এসময় জিয়াউল হাসান বলেন, ‘এখনকার যে হেফাজত, এ হেফাজতের উগ্রপন্থী, পাকিস্তানপন্থী, তালবানপন্থী, জঙ্গি এবং প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী অংশ এখন নেতৃত্বে আসছে।’

 

লিখিত বক্তব্যে জিয়াউল হাসান বলেন, ‘আমাদের জাতির চিরশত্রু মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যাকারী, মা-বোনদের ইজ্জত-সম্ভ্রম লুণ্ঠনকারী, স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ জনগণকে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য, শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ-এর ভাস্কর্যসহ যেসব স্থাপনা জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যমাখা স্মৃতি বহন করে সেসব স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য কঠোর আইন প্রণয়নের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে দেশবিরোধী ঘৃণ্য ফতোয়াবাজ, ধর্ম ব্যবসায়ী, ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণ জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের পক্ষ থেকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

 

মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাস্কর্য রয়েছে উল্লেখ করে এই নেতা আরও বলেন, কট্টর ওয়াহাবিপন্থী হুজুররাও এটি জানে, প্রাণীর ভাস্কর্য মানেই শিরক নয়। সৌদি আরবে জেদ্দার মূল কেন্দ্রে দি ফিস্ট নামে একটি ভাস্কর্য আছে, এটি একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য। আরও আছে ঘোড়ার ও মাছের ভাস্কর্য। একইভাবে মুসলিম অধ্যুষিত দুবাই, ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও মিসরে রয়েছে ঘোড়া ও অন্যান্য জীবের ভাস্কর্য। প্রমাণিত হল ভাস্কর্য জীবদেহের হোক বা জীবদেহের কোনো অংশের হোক তা যদি শিরক বা পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত না হয় তবে এতে কোনো বারণ নেই।

 

ইসলামী জোটের সভাপতি বলেন, তবে গোঁড়া তালেবানি ভাবধারায় ভাস্কর্য নির্মাণ নিষিদ্ধ, হেফাজতিরা সম্পূর্ণভাবে অ-ইসলামী সেই ভাবধারা প্রবর্তনের কথা বলছে। হেফাজতিরা যদি সত্যিকার অর্থেই ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধী হয়ে থাকেন তবে এর প্রমাণ তারা তাদের হাটহাজারীর কাছেই অবস্থিত খাগড়াছড়িতে প্রদর্শন করতে পারেন। খাগড়াছড়ি শহরের দ্বারপ্রান্তে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বৃহদাকার ভাস্কর্য রয়েছে। মানুষের এই মূর্তি ভেঙে এরা প্রমাণ করতে পারেন এ বিষয়ে তারা কতটা সিরিয়াস।

 

তিনি বলেন, মূর্তি ও ভাস্কর্য যে উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে সেই উদ্দেশ্য নির্ধারণ করবে এটি বৈধ নাকি অবৈধ। চরমোনাই পীর মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং হেফাজতের নেতা মামুনুল হককে উদ্দেশ করে মাওলানা জিয়াউল হাসান বলেন, আপনাদের দেশবিরোধী এসব আন্দোলন বাস্তবায়নের জন্য জনগণের ম্যানডেট নিয়ে সংসদে গিয়ে বিল উত্থাপন করে তা পাস করুন।

 

মসজিদকেন্দ্রিক রাজনীতি বন্ধ করার দাবি জানিয়ে ইসলামী জোটের সভাপতি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর, এর পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সবার কর্তব্য। মসজিদে নোংরা রাজনীতি, কূটনীতি, মিছিল, আন্দোলন, ককটেল, বোমা, মসজিদের মাইক ব্যবহার করে পুলিশের ওপর আক্রমণ করা, পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে মারধর করা, ইট-পাথর নিক্ষেপ করা কোনো ধার্মিকের কাজ হতে পারে না। একই কথা মাদরাসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। জামায়াত-শিবির হেফাজতি চক্রসহ জঙ্গি মদদদাতা, ধর্ম ব্যবসায়ী সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর সব রাজনৈতিক কার্যক্রম বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও তার চত্বরে নিষিদ্ধ করার জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।

 

এসময় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি জোবাইদ আলী এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা ফারুক হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *