মো. সানোয়ার হোসেন মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার জমিসহ ঘর পেয়ে বদলে গেছে ৩শত ৫৫ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জীবনমান। এক সময়ের ভূমিহীন ও গৃহহীন এসব পরিবারকে এখন আর অন্যের ঘরে বা ভাসমান অবস্থায় থাকতে হয়না। মাথা গোঁজার নিশ্চিত আপন স্থায়ী ঠিকানা পেয়ে খুশি এসব ঘরের বাসিন্দারা। সামাজিক মর্যাদা পেয়ে এখন ঘুরে দাঁড়াবার স্বপ্ন দেখছেন তারা। এদিকে সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের গড়ে তোলা হচ্ছে দক্ষ জনশক্তিতে। দেয়া হচ্ছে ঋণ সহায়তা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র মতে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রথম ধাপে ২৩৭টি ঘর, দ্বিতীয় ধাপে ৭০টি ও তৃতীয় ধাপে ৪৮টি ঘরসহ মোট ৩৫৫টি ঘর জমির দলিলসহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও চতুর্থ ধাপে আরো ৬৪টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। গত ২২মার্চ উপজেলার মজিদপুর গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পটি উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। সকল আধুনিক সুযোগ সুবিদা নিয়ে এ আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি পরিবার যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে সে অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।
দুই শতক জমির উপর নির্মিত সেমি পাকা প্রতিটি ঘরের প্রথম ধাপে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা, দ্বিতীয় ধাপে এক লাখ ৯৮ হাজার টাকা ও তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে দুই লাখ ৮৪ হাজার টাকা। ঘরে থাকছে রান্নাঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা। স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা, প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, দিনমজুর ভূমিহীনদের নাম রয়েছে এই ঘর পাওয়াদের তালিকায়। এছাড়াও পানি, বিদ্যুৎসহ সব ধরণের সুবিধা রয়েছে।
দেওহাটা আশ্রয়ণ পকল্পের বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এর আগে বাইমহাটি ব্রিজের নিচে থাকতাম। পাকা ঘর পেয়ে খুব সুখে জীবনযাপন করছি।
একই জায়গার বাসিন্দা সালমা বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায়, এর আগে তিনি গার্মেন্টসে চাকুরী করতেন। বিয়ে হওয়ার পর স্বামী নিয়ে উপহারের ঘরে থাকেন। তার স্বামী চায়ের দোকান করে। বর্তমানে তারা এক ছেলে সন্তান নিয়ে শান্তিতে আছেন।
গোড়াই ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর জানান, মুবিজবর্ষের জমিসহ ঘর পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ। তাদেরকে সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা পরিষদের মাধ্যকে প্রদান করা হচ্ছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল বলেন প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রাম হবে শহর’ এই ঘোষণার একটি বাস্তব উদাহরণ দেওহাটা আশ্রয়ণ প্রকল্প। বর্তমানে সকল সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগরী হিসেবে রুপ নিয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান এই প্রতিবেদককে জানান ইতিমধ্যে যারা ঘর পেয়েছেন তারা স্বাচ্ছন্দে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাবন করছেন। করোনাকালীন ও বর্তমান সময়ে এ সকল দরিদ্র মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। একই সাথে কোন ভূমিহীন, গৃহহীন যেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। ২২মার্চ এ উপজেলায় চতুর্থ ধাপে ৬৪টি উপহারের ঘর পাবে।
এসএইচ
