লেখাপড়া ঠিকমতো করিনি, চিন্তা করেছিলাম টেক্সিচালক হবো: আসিফ

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়। গহীন পাহাড়ে মাঘের শীতের আগ্রাসন একটু বেশিই। এখানে আসা একদল মানুষকে শীত কাবু করতে পারেনি। ৩৩ বছর পর বন্ধুত্বের উষ্ণতা পেয়ে তাদের শীত উধাও হয়ে গেছে। আনন্দ আড্ডা ও নাচ-গানে ৫০ বছরের মানুষগুলোর বয়স কমে ১৬ হয়ে গেছে।

এসএসসি ৯০ ব্যাচের কুমিল্লার বন্ধুরা কোটবাড়ি লালমাই পাহাড়ের একটি পার্কে এই আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন জেলার বন্ধুরাও অংশ নেয়। এতে সহস্রাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করে।

আমলা, বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষক, পুলিশ কর্মকর্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী সবাই এক কাতারে নেচে গেয়ে দিনটি উদযাপন করেন। গান পরিবেশন করেন আসিফ আকবরসহ বিভিন্ন শিল্পীরা।

ছিলো কুমিল্লার খাদি পোষাক নিয়ে ফ্যাশন শো। কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে ডকুমেন্টরি। শুক্রবার দিনব্যাপী আয়োজনের পর্দা নামে রাত ৮টায়। এর আহ্বায়ক ছিলেন কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। সদস্য সচিব মোসলেম উদ্দিন। সাংস্কৃতিক সমন্বয়ক ছিলেন খায়রুল আনাম রায়হান।

৯০ব্যাচের শিক্ষার্থী নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডা. আরিফ মোর্শেদ খান বলেন, মনে হয় টাইম লাইনে চড়ে আমরা পেছনে চলে গেলাম। মনে হচ্ছে আমরা সেই ১৫/১৬ বছরে ফিরে গেছি। আজ দেশ বিদেশে থাকা বন্ধুদের সাথে মিলন হলো। এক অপরের সাথে মিলিত হয়ে সৌহার্দ্য ভাতৃত্ববোধ সৃষ্টির সাথে দেশের জন্য কাজর করার অনুপ্রেরণা পেয়েছি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, এখানে এসে যে আনন্দ পেয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বন্ধুরা বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। তবে এখানে এসে আমরা পুরানো দিনে ফিরে গেছি। এখানে এসে নিজেকে নতুন করে চার্জ করে নিলাম। দিনটা খুব ভালোভাবে কেটেছে।

টিভি উপস্থাপিকা শিমুল পারভীন বলেন, আজ নিজেকে তরুণী মনে হচ্ছে। ভালো লাগছে পুরাতন বন্ধুদের একসাথে পেয়ে। নিজেকে মুক্ত বিহঙ্গ মনে হচ্ছে আজ।

সাংস্কৃতিক সমন্বয়ক খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, মানুষ তার শেকড়ে ফিরতে চায়। আমরা যখন রেজিস্ট্রেশন আহ্বান করেছি তখন প্রচুর সাড়া পেয়েছি। প্রশাসনের অনেক বন্ধু এসেছেন। তারা বলেছেন তোমরা আজ আমাদের বয়স কমিয়ে দিয়েছো। এছাড়া আমাদের কিছু বন্ধু খারাপ অবস্থায় পড়েছিলো। আমরা তাদের পাশেও দাঁড়িয়েছি।

আসিফ আকবর বলেন, আমি কুমিল্লার ছেলে। ৮৯ ব্যাচের ছাত্র আমি। ৯০ ব্যাচের সাথে উঠাবসা ছিলো। সারা দেশের বন্ধুরা এখানে একসাথ হয়েছে দেখে ভালো লাগছে। তারা যেন এই বন্ধন ধরে রাখে। প্রায় জিলা স্কুল থেকে পালিয়ে কোটবাড়ি এলাকায় চলে আসতাম। আজ কোটবাড়ি এসে সেই স্মৃতি মনে পড়ছে। নগরীর রামঘাটলা থেকে বেবি টেক্সিতে উঠতাম। লেখাপড়া যেহেতু ঠিক মতো করতাম না, তাই কিছু করে তো খেতে হবে। তাই চিন্তা করলাম বেবি টেক্সি চালক হবো। এক চালকের সাথে খাতির করে কিছুদিন প্র্যাকটিসও করেছি।

কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদ পারভেজ খান ইমরান বলেন, আমাদের বন্ধুরা বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত। আমরা আমাদের স্কুল জীবনকে খুব মিস করি। তাই এই আয়োজন করা। এখানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালসহ সারা দেশের বন্ধুরা এসেছে। এখানে কুমিল্লার খাদি ও রসমালাইকে উপস্থাপন করা হয়েছে। সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *