জাদুকর আর নেই, কিন্তু তার জাদু আজীবন থেকে যাবে। বৃহস্পতিবার ৮২ বছর বয়সে মারা গেলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল লিজেন্ড পেলে। দীর্ঘদিন কোলন ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে হার মানলেন তিনি।
একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জেতা পেলে অনুপ্রাণিত করেছেন অগণিত খেলোয়াড় ও কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগীদের। তার মৃত্যুর খবরে শোকের সাগরে ভাসছে বিশ্ব।
ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমার সম্প্রতি ৭৭তম গোল করে দেশের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা পেলেকে ছুঁয়েছেন। ফুটবল রাজার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তিনি। পেলে কতটা অনুপ্রাণিত করেছেন তাকে এবং ফুটবলে কতটা ছাপ রেখেছেন সেটা মনে করিয়ে দিলেন পিএসজি স্ট্রাইকার।
নেইমার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘পেলের আগে ‘১০’ ছিল কেবলই একটি সংখ্যা। আমি এই প্রবাদ কোথাও পড়েছিলাম, আমার জীবনের কোনও একটা মুহূর্তে। কিন্তু ওই প্রবাদ, সুন্দর, অসম্পূর্ণ। আমি বলি পেলের আগে ফুটবল ছিল কেবলই একটি খেলা। পেলে সবকিছু বদলে দিয়েছিলেন। তিনি ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়েছিলেন, বিনোদনের জায়গায় পৌঁছান। তিনি দরিদ্রদের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন, বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য। ফুটবল এবং ব্রাজিলের মর্যাদা উন্নীত হওয়ার জন্য রাজার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তার জাদু থেকে যাবে। পেলে অবিনশ্বর।’
ফুটবলের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে অনেকের কাছে প্রশংসিত পেলে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০১৮ বিশ্বকাপ চলাকালে তাঁকে হুইলচেয়ারে বসা অবস্থায় দেখা যায়। সেই টুর্নামেন্টের এক মাস পরেই পেলেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে একটি টিউমার অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি ডাক্তারদের কাছ থেকে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২২ সালের শেষের দিকে তাঁকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। কাতার বিশ্বকাপজুড়ে এবং এরপর ক্রিসমাসের সময়েও পেলে সাও পাওলোর হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পেলের মেয়ে কেলি নাসিমেন্তো পুরো সময়জুড়ে অসুস্থ বাবার স্বাস্থ্যের খবরাখবর বিশ্ববাসীকে জানিয়েছিলেন।
বর্ণিল এক জীবন কাটিয়েছেন পেলে। পেয়েছেন অনেক স্বীকৃতি। ১৯৯৯ সালে শতাব্দীর সেরা অ্যাথলেট হিসেবে স্বীকৃতি পান আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কাছ থেকে। ফিফার ‘প্লেয়ার অব দ্য সেঞ্চুরি’ হয়েছেন ম্যারাডোনার সঙ্গে যৌথভাবে।
১৩৬৩ ম্যাচ খেলে ১২৭৯ গোল করেছেন পেলে। ক্লাব ক্যারিয়ারের পুরোটাই তিনি কাটিয়েছেন সান্তোসে। ১৫ বছর বয়সে ক্লাব ও এক বছর পর জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর দেশের হয়ে ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ এর বিশ্বকাপ জেতেন পেলে। ১৯৭৭ সালে ফুটবলকে বিদায় বলেন এই কিংবদন্তি।
