১৯৮৬ থেকে ২০২২। ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে পেরিয়ে গেছে ৩৬টি বছর। এর মাঝে স্বাদ নেওয়া হয়নি বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের। এমন হিসেব-নিকেশ পুঁজি করেই আয়োজক দেশ কাতারে এবার পা রেখেছিল লিওনেল মেসির দল।
তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবের কাছে হেরে সেই আশায় গুড়ে বালি হয়েছিল আলবেসেলিস্তাদের। কিন্তু পরক্ষনেই সেই প্রেক্ষাপট পাল্টে বিশ্বকাপে নিজেদের মেলে ধরতে শুরু করেছে লিওনেল মেসির দল। যার শুরুটা হয়েছে আজকের ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলের দারুণ জয় দিয়ে।
কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে আজ মাঠে নামে লিওনেল স্ক্যালোনির দল। টিকে থাকার লড়াইয়ে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না মেসিদের। এমন সমীকরণের ম্যাচে জয়ের নায়ক ‘লিওনেল মেসি’। গোল করে দলকে যেমন দিয়েছেন বিশ্বকাপে টিকে থাকার সম্ভাবনার, ঠিক তেমনি তরুণ অ্যানো ফার্নান্দেসকে দিয়েও করিয়েছেন অনবদ্য এক গোল।
মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট শুধু নয় অর্জন করেছে আত্মবিশ্বাসও।
ম্যাচ শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মেসি জানান, এখন আর সৌদি ম্যাচ নিয়ে ভাববার অবকাশ নেই। দলের এখন এগিয়ে যাবার সময়।
মেসি বলেন, ‘এখন হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না। পুরো টুর্নামেন্ট পড়ে আছে। আর ভুল করা যাবে না। আমরা জানতাম দর্শকরা এমনভাবেই আমাদের সমর্থন দেবে। তাদের মর্যাদা রাখতে পেরেছি।’
মেক্সিকোর বিপক্ষে ৬৪ মিনিটে গোল করে ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন মেসি। আর ৮৭ মিনিটে তার অ্যাসিস্ট থেকেই দ্বিতীয় গোল করেন এনজো ফার্নান্দেস।
এই ম্যাচে গোল করে কিংবদন্তি অধিনায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনার পাশে বসলেন মেসি। দুই নাম্বার টেন-এর গোলসংখ্যাই এখন ৮। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে এক ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্টের রেকর্ডও করেন তিনি।
তবে, দলের এমন গুরুত্বপূর্ণ জয়ের পর ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে ভাবছেন না মেসি। তার দাবি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মাত্র শুরু হলো।
মেসি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে নানা কারণে আমাদের হারতে হয়েছে। আমরা জানতাম আজকে জিততেই হবে ও কীভাবে জিতব সেটাও জানতাম। আজ আমাদের বিশ্বকাপ শুরু হলো।
‘মেক্সিকো শক্ত প্রতিপক্ষ। আমাদের কাজটা সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে আমরা চাপ সয়ে গেছি। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা স্নায়ুচাপ সামলে নিয়েছি ও নিজেদের খেলাটা খেলতে পেরেছি।’
