অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়; কিংবা তার চেয়েও বেশি কিছু। উপমা টানতে গিয়ে কোনো শব্দই হয়তো এখন উপযুক্ত মনে হবে না সৌদি আরবের সমর্থকদের কাছে। এ যে স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখা, রূপকথা রাজ্যে রাজপ্রাসাদ গড়া। তিন বছর ধরে অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যেখানে লড়াই করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, সেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই বিজয় কেতন ওড়ালো মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনের তালিকায় নিজেদের নামটি তুলে নিলো তারা।
‘সি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সৌদি আরব। বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের বিপক্ষে প্রথম সাক্ষাতের উপলক্ষ্যটা রাঙিয়ে নিলো তারা।
এদিকে সৌদি আরবের কাছে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ হারের পর পরের দুই ম্যাচ জয় ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে মনে করছেন আর্জেন্টিনার হেড কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রতিক্রিয়ায় এমনটিই জানিয়েছেন স্কালোনি।
বিশ্বকাপে সৌদি আরবের পর মেক্সিকো ও পোল্যান্ডের বিপক্ষেও মাঠে নামতে হবে মেসি-দি মারিয়াদের। প্রথম ম্যাচের হতাশাকে ঝেড়ে ফেলে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান স্কালোনি।
তিনি বলেন, ‘উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এটা নিয়ে এতো বিশ্লেষণও আমরা করতে চাইনা। আজকের দিনটা হতাশার। তবে আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে।’
কাতার বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৩ নম্বর দল আর্জেন্টিনা। স্কালোনির বিশ্বাস এক ম্যাচ হারে দলের ফেভারিট তকমা মুছে যায়নি।
তিনি যোগ করেন, ‘ম্যাচের আগে আমরা ফেভারিট হিসেবে নেমেছিলাম। এখনও তাই-ই আছি। বিশ্বকাপে এমনটা হতেই পারে। যে বিষয়গুলো আমাদের পক্ষে যায়নি সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। দুটা ম্যাচ আছে। সেগুলোতে মরিয়া হয়ে খেলতে হবে আমাদের।’
ম্যাচে সৌদি আরবের অফসাইড ফাঁদে পড়ে ৩টি গোল হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার। দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর তারা গোছানো ফুটবল খেলতে পারেনি। তারপরও স্কালোনি মনে করেন প্রস্তুতি বা পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল না।
তিনি বলেন, ‘আমরা এর চেয়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এ টুর্নামেন্টে নামতে পারতাম না। ফুটবলের বিষয়টা এমনই। আর বিশ্বকাপ পুরো ভিন্ন একটা টুর্নামেন্ট। শুরুর ম্যাচ হেরেছি কিন্তু লড়াই করার জন্য আমাদের দুটো ম্যাচ বাকি।’
