সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো- লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবে মেধাবী শিক্ষার্থী জুয়েলকে পিটিয়ে পুড়িয়ে ভস্মিভূত করার প্রতিবাদে খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে রংপুরে তার জন্মস্থান শালবনসহ আশেপার্শ্বের ১০ মহল্লায় আধা বেলা সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে।
হরতাল শেষে হাজারো নারী পুরুষ নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে পুলিশের ডিআইজি ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে। স্মারকলিপি দিয়েছে দুই বিভাগীয় কর্মকর্তাকে।
এর আগে জুয়েল হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে রংপুর নগরীর ব্যস্ততম এলাকা শালবন ও আর্শ্বেপার্শ্বের ১০ মহল্লায় সকাল থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। এ সময় সকল দোকান পাট ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। দুপুর ১২ টার পর এলাকাবাসি নিহত জুয়েলের স্ত্রী জেসমিন আখতারের নেতৃত্বে বিরাট বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে নগরীর কাছারী বাজার এলাকায় অবস্থিত পুলিশের রংপুর রেজ্ঞের ডিআইজি কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অভিযোগ করা হয় স্থানীয় প্রশাসন জুয়েলকে রক্ষা করতে চরম ভাবে ব্যার্থ হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ঘটনার মুল আসামী হোসেন আলী সহ যারা তার লাশ পুড়িয়েছে তাদের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। বরং পুরো ঘটনাকে ধামা চাপা দিতে নানান অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ঘেরাও চলা কালে ডিআইজির অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ মিজানুর রহমান শাফি স্মারক লিপি গ্রহন করে বলেন, ওই ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার নিজেই মনিটারিং করছেন। এ পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন জঘন্য বর্বরোচিত বিভৎস ঘটনার সাথে জড়িতদের সকলকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।
এর পরে মিছিলকারীরা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। সেখানে বিভাগীয় কমিশনারের অনুপস্থিতিতে স্মারক লিপি গ্রহনণ করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু তাহের মোঃ মাসুদ রানা।
তিনি এ জঘন্য হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে সার্বক্ষনিক মনিটারিং করার কথা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে নিহত জুয়েলের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবার বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেখানে নিহত জুয়েলের স্ত্রী জেসমিন আখতার তার স্বামীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার দাবি করে বক্তব্য দেন।
