তৌফিকুর রহমান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জোরপূর্বক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই সন্তানের জনক সোহেল খানের (৩০) বিরুদ্ধে।
ধর্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রী বর্তমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সে স্থানীয় স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত সোহেল উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাদারিয়া গ্রামের গোলাপ খানের ছেলে।
ধর্ষণের ওই ঘটনায় সপ্তাহখানেক আগে গ্রাম্য সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেখানে কোনও সমাধান না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
ভুক্তভোগী ঐ স্কুলছাত্রী জানান, সোহেল স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে আমাকে খুব উক্ত্যক্ত করতো এবং কু-প্রস্তাব দিতো। হঠাৎ একদিন সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে এক দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে সোহেল জোর করে রাস্তা থেকে তুলে পাশের এক বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে হুমকি দেয় এবং বিয়ের কথা বলে প্রায়ই ধর্ষণ করতো।
এ নিয়ে বহুবার সোহেলকে বিয়ের কথা বললে সে নানা অজুহাত দেখিয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেই যেত। তার ধর্ষণের ফলে আমি এখন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছি। মাসখানেক আগে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে আমাকে অনেক মারধর করে। পরে তিনি আমাকে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে গর্ভের সন্তান ফেলে দেয়ার জন্য একাধিকবার চাপ দেয়।
তিনি আরও জানান, গর্ভের সন্তান ফেলে না দিলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানাই।
এদিকে, গর্ভের সন্তানের বাবার পরিচয় ও সমাধানের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন বিচার পাচ্ছি না। আমি এখন সোহেলের স্ত্রীর মর্যাদা চাই।
এ ঘটনায় ফলদায় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু জানান, মেয়ের অভিযোগে আমি কিছুদিন আগে এলাকার মাতাব্বরদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশে বসি। পরে সালিশে সোহেল ধর্ষণ ও বিয়ের প্রলোভনের কথা অস্বীকার করায় আমরা ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেল খানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, শনিবার (৪ জুন) বিকেলে ওই ছাত্রীসহ তার বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আসামি গ্রেপ্তার চেষ্টাও শুরু করেছে পুলিশ।
