ভূঞাপুরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে পিটিয়ে রক্তাক্ত

তৌফিকুর রহমান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সিরাজকান্দি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং করে এলাকার দুই যুবক। এর প্রতিবাদ করায় ওই মাদ্রাসার এক সহকারি শিক্ষককে রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে।

আহত শিক্ষক উপজেলার সিরাজকান্দি গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম।

জানা যায়, গত ২৯ মে উপজেলার সিরাজকান্দি দাখিল মাদ্রাসায় ক্লাস চলাকালীন সময়ে ছাত্রীদের টয়লেটের টিনের বেড়ার উপর দিয়ে দুইজন বখাটে ছেলে জাহিদ, পিতাঃ বদিউজ্জামান এবং সাগর, পিতাঃ আঃ আলিমকে উঁকি ঝুকি এবং লাফা লাফি করতে দেখা যায়। মাদ্রাসার শিক্ষকরা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের আটক করে।

মাদ্রাসার সভাপতির অনুমতিক্রমে তাদের পুলিশে দেওয়ার কথা শুনে তারা সেখান থেকে হাত ফসকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পরদিন সোমবার (৩০ মে) জোহর নামাজের ওয়াক্তে নামাজে যাবার সময় শিক্ষক নজরুল ইসলামের উপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করে ওই দুই বখাটেসহ অজ্ঞাত আরো সাতজন।

আহত শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টায় আমি ফোনের মাধ্যমে জানতে পারলাম, অত্র মাদ্রাসার সুপার আঃকুদ্দুস সাহেবের উপর আক্রমণ হতে পারে। বখাটেরা উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের ফকিরের কেল্লায় পরিকল্পিতভাবে অবস্থান নিয়েছে। আমি তখনই সুপার সাহেবকে বিষয়টি অবগত করি। আমি জোহরের নামাজে যাবার সময় দুই নং পুনর্বাসন এলাকায় আমার উপর ওই দুই বখাটেসহ অজ্ঞাত সাতজন রড এবং ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। আমার সাথে সরকারি শিক্ষক সফিকুল ইসলাম ছিলেন তাকেও মারধর করা হয়।

ঐ মাদ্রাসার সুপার আঃকুদ্দুস বলেন, বখাটে জাহিদ এবং সাগর উপজেলার ২ নং এবং ১ নং পুনর্বাসন এলাকায় বসবাস করে। তারা পরিকল্পিতভাবে আমার উপর আক্রমণ করতে পারে বলে আমাকে মোবাইল ফোনে সতর্ক করেন আহত শিক্ষক নজরুল ইসলাম। অতপর দুপুরে খবর পাই বখাটেরা নজরুল ইসলামের উপর আক্রমণ করছে। বর্তমানে তিনি ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই ঘটনার পর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাকে বার বার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এর দৃষ্টান্তমুলক বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *