কবরস্থান কমিটির দ্বন্দ্ব: সিরাজগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, ৬ জন আটক

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থান কমিটিকে কেন্দ্র করে হারুনুজ্জামান বিপুল (৪২) নামের এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

নিহত হারুনুজ্জামান বিপুল উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের গুপিনাথপুর গ্রামের মৃত মোক্তারুজ্জামান সরকারের ছেলে ও স্থানীয় বাজারের খৈল ভুষি ব্যবসায়ী এবং আড়াই বছরের ও ৬ বছরের ২ সন্তানের জনক।

হত্যার ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি হাসিবুল হক হাসান ও ২৯ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরও ১০/১৫ জনের নামে মামলা করেছে নিহতের বড় ভাই হাসিবুজ্জামান সরকার কবির। গ্রেফতারকৃত আসামিরা যথাক্রমে, মোতাহার হোসেন মাস্টার (৭০), হারুন সরদার (৩১), পলাশ সরদার (৩৮), আলামিন সরদার (৩৫), আব্দুস সাত্তার (৪০) প্রমুখ।

জানা যায়, স্থানীয় ঈদগাহ মাঠ কবরস্থান কমিটিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন যাবৎ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম আকমল ও কোষাধ্যক্ষ লুৎফর রহমান এই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।এই বিরোধ কে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে শ্যামবাড়িয়া পূর্ব পাড়ার লুৎফর রহমান ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসিবুল হক হাসানের পক্ষ এবং জাহাঙ্গীর আলম আকমল পক্ষের শ্যাবাড়িয়া পশ্চিমপাড়ার বাসীন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরে হারুনুজ্জামান বিপুল শ্যামবাড়িয়া থেকে ব্যাবসায়ীক ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গোপীনাথপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে মোটরসাইকেল যোগে যাওয়ার পথে লুৎফর রহমান ও হাসান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্র যেমন, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, হাসুয়া ও লোহার রড নিয়ে বিপুলের পথরোধ করে।

পরে বিপুল আত্মরক্ষার্থে পালানোর সময় ধানক্ষেতে পড়ে গেলে সেখানে লুৎফর রহমান সরদারের নির্দেশে হাসান চেয়ারম্যান ও তার বাহিনীর লোকজন বিপুলকে এলোপাথারী কোপাতে থাকে ও লোহার রড দিয়ে বেদম প্রহার করতে থাকে।

পরে বিপুলের স্বজনেরা খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। পরে সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ভর্তি করে, সেখানে বিপুলের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক বিপুলকে ঢাকার নিউরোসাইন্স হাসপাতালে স্থানাস্তরের পরামর্শ দেন।

নিউরোসাইন্স হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে বিপুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয় চিকিৎসক। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাত আনুমানিক ১১টায় পথেই বিপুলের মৃত্যু হয়।

নিহত বিপুলের চাচাতো ভাই রাসেল বলেন, আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে ও যারা আমার ভাইয়ের দুই সন্তানকে যারা এতিম করেছে তাদের আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এই ঘটনায় কায়েমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি হাসিবুল হক হাসানের শুঠোফোনে বার বার কল করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত বিপুলের পরিবারের মাঝে ও গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এই ঘটনার ফলে এলাকাজুরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সবাই মূল্যবান সম্পদ লুটপাট হওয়ার ভয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বড় ভাই হাসিবুজ্জামান সরকার কবির বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখ ও ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করে শাহজাদপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *