গতকাল মঙ্গলবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেল। তাঁর মৃত্যুতে পুরো ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্ত্রী ফারহানা রূপা চৈতি যেন একেবারেই স্তব্ধ। পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান আর বাবাকে ফিরে পাবে না। এই নির্মম বাস্তবতার কথা বলেছেন তারকা পেসার রুবেল হোসেন।
মোশাররফ রুবেলের স্ত্রী ও সন্তানের ছবি পোস্ট করে নিজের ফেসবুকে পেসার রুবেল হোসেন লিখেছেন, ‘জীবনের নির্মম বাস্তবতা। কি নিষ্ঠুর দৃশ্য! বাবা আর কথা বলবে না। বাবা আর হাসবে না। আর কখনো দেখা হবে না। কখনোই বলবে না আয় বুকে আয়, এই ব্যথার শূন্যতা সবাই বুঝবে না, যার নেই সেই জানে পৃথিবীটা কতো কঠিন! বড় হও বাবা ভালো মানুষের মতো, তোমাকে যে অনেক উচ্চতায় যেতে হবে, তোমার জন্য অন্তর থেকে দোয়া করেছি। আল্লাহ পাক যেন রমজানের উছিলায় মোশারফ হোসেন রুবেল ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন আমিন।’
প্রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে ব্রেইন টিউমারের সঙ্গে লড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বাঁহাতি এই স্পিনার। দেশের বাইরে গিয়ে কেমোথেরাপিসহ জটিল সব চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।
গত মাসের মাঝামাঝি শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। তবে খানিক সুস্থ বোধ করায় গত শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় রুবেলকে। এর চারদিনের মাথায়ই গতকাল চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
২০০৮ সালে বাংলাদেশ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল মোশাররফ রুবেলের। তবে টিকতে পারেননি বেশিদিন। ২০১৬ সালে খেলেছেন সবশেষ ম্যাচ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সবমিলিয়ে ৫ ওয়ানডেতে চার উইকেট ও ২৬ রান করেছেন তিনি।
তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এ স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১২ ম্যাচে ১৯ বার ইনিংসে ৫ উইকেটসহ মোট ৩৯২ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ব্যাট হাতে দুই সেঞ্চুরিতে করেছেন ৩৩০৫ রান।
এছাড়া সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ১০৪ ওয়ানডেতে ১২০ উইকেটের সঙ্গে ১৭৯২ রান এবং ৫৬ টি-টোয়েন্টিতে ৬০ উইকেটের সঙ্গে ৬২ রান করেছেন তিনি। সবশেষ ২০১৯ সালের বিপিএলে স্বীকৃত পর্যায়ে ম্যাচ খেলেছেন রুবেল।
