৩ দাবিতে হেঁটে গণভবনে গেলেন সোহেল তাজ

ঐতিহাসিক ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনের দিনটিকে “প্রজাতন্ত্র দিবস” ঘোষণাসহ তিন দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।

আজ রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ গেট থেকে পদযাত্রা করে গণভবনে স্মারকলিপি প্রদান শেষে তিনি এসব দাবি জানান তিনি।

গণভবনের সামনে সোহেল তাজ বলেন, ‘আজকের দিনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে প্রথম সরকার গঠিত হয়। এই মুজিবনগর দিবসে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনটি দাবি নিয়ে এসেছি।

এক. আজকের এই দিনটিকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণা করতে হবে। দ্বিতীয়. আপনারা জানেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করার পর মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় ৪ নেতাকে কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ৪ নেতা জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন তাঁরা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তাই ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করতে হবে।

তৃতীয়. মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সামরিক, বেসামরিক, রাজনৈতিক ও কূটনীতিকসহ যারা সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তাঁদের জীবনী, ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ আমি মনে করি আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে যদি কোন ফাঁক থাকে তাহলে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি সেগুলো পূরণ করার সুযোগ পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি সুন্দর সোনার বাংলা গড়তে চাইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই ইতিহাস থেকেই আমরা প্রাণশক্তি খুঁজে পাব। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরতে হবে।’

গণভবনে স্মারকলিপি গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সংসদ ভবন থেকে হেঁটে গণভবনে স্মারকলিপি দিতে এসেছি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিরা স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন। আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই তিনটি দাবি বাস্তবায়ন করতে পারবেন। তাঁর প্রতি আমার আস্থা আছে। আশা করি অতি সত্তর তিনি এই তিনটি দাবি পূরণ করবেন।’

পদযাত্রায় সোহেল তাজের সঙ্গে আরও অংশ নেন তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে মাহজাবিন আহমেদ মিমি, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজসহ সোহেল তাজের শতাধিক শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রহরী ৭১ এর সংগঠকেরা।

গত বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিন দফা দাবিতে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে দেশবাসীকে এখন শরীর চর্চায় উৎসাহী করতে কাজ করা সোহেল তাজ।

তিনি জাতীয় চার নেতার মধ্যে তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে। তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তাজউদ্দীনের আসন গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হন।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের মন্ত্রিসভা গঠন হলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ পান সোহেল তাজ। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অভিমান করে মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেন। পরে তার আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় বোন সিমিন হোসেন রিমিকে। তিনি এখনও সেই আসনের সংসদ সদস্য।

২০১৬ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে আগে আবার সোহেল তাজ আলোচনায় আসেন। তিনি রাজনীতিতে ফিরছেন- এমন গুঞ্জনও তৈরি হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সাক্ষাতের পর। এমনকি আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও তিনি যোগ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *