রাজিব মজুমদার, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: মীরসরাইয়ে রাতের আধাঁরে ফসলি জমি ও বেড়ি বাঁধের টপ সয়েল (জমির উপরি ভাগের মাটি) চুরি করে কেটে বিক্রির হিড়িক পড়েছে। এই মাটিগুলো বিভিন্ন ইটভাটা এবং জায়গা ভরাটের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। মাটি খেকো কিছু দূর্বৃত্ত রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জমির টপ সয়েল কেটে গাড়ি ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্নস্থানে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ১নং করেরহাট ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডস্থ ঘেড়ামারা এলাকায় সড়কের পাশ্ববর্তী এবং টিলার নীচের সমতল পতিত প্রায় ১ একর জমির মাটি নিয়ে গেছে মাটিখোকোরা। ঘটনাস্থলে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত স্কেভেটরটিও পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায় জমির উত্তর ও পূর্ব প্রান্ত থেকে মাটি কাটা শুরু করা হয়েছে। রাত যখন গভীর হয় তখন মাটি কাটা শুরু হয় এবং ভোর বেলায় শেষ হয়।
এদিকে এই মাটি কাটার ফলে জমির পাশ্ববর্তী সড়ক ধ্বসে ও বাড়ীগুলো বৃষ্টির পানিতে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত পতিত জমির একাধিক মালিকানা রয়েছে। স্থানীয় রবিউল হকের বাড়ী প্রকাশ বাঙালী বাড়ীর কয়েকজনে মালিকানাধীন ওই জমি। ওই বাড়ীর আলী হোসেন, হেদায়েত হোসেন, কালামিয়া, বদিউর রহমান, ভোছা মিয়া, হেঞ্জুমিয়া গং মালিক বলে দাবী করেন। তারা পূর্ব পুরুষদের থেকে প্রাপ্ত এই জমি ভোগ দখল করে আসছেন। এক দশক আগেও এই জমিতে মৌসুমি বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হতো। গত কয়েক বছর যাবত বর্ষা মৌসুমে সেখানে পানি জমাট বেঁধে থাকায় তাতে আর ফসল করা সম্ভব হয় না।
সম্প্রতি গত কয়েকদিন যাবত উক্ত জমির মাটিগুলো রাতের আঁধারে স্কেভেটর দিয়ে কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। উক্ত মাটি গুলো স্থানীয় আলী হোসেনের ছেলে শাহাদাতের নেতৃত্বে কাটা হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যাক্তিরা জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহাদাত জানান, মাটি কাটার সাথে আমি জড়িত নই। কে বা কারা মাটি কাটছে আমি তাও জানি না।
এ বিষয়ে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জানান, মাটি কাটার বিষয়ে আমার অবস্থান জিরো ট্রলারেন্স। যে বা যারা মাটি কাটুক তাদেরকে আইনের আওতায় আসতে হবে। মাটি কাটার বিষয়ে আমাদের এমপি মহোদয়েরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এদিকে গত শুক্রবার রাতে উপজেলার মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় ক্লোজার ড্যামের স্লোপ থেকে ঘর নির্মাণের জন্য রাতের আঁধারে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ফেলা হয়। এসময় সড়কের পাশে থাকা কয়েকটি পিলারও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে আনসার সদস্যদের পাঠানো হলে তাদের সাথে দূর্ব্যবহার করা করা হয় বলে অভিযোগ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ প্রকৌশলী নুরুন নবী। এ ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ২৭ মার্চ স্থানীয় জোরারগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (১৬৬) করা হয়েছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নুরুন নবী জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রথমে আনসার ও পুলিশ সদস্যেদের পাঠানো হয়েছে। পরে রবিবার মাটি কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী সোনাগাজী শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মানিক মিয়া বাদী হয়ে ওচমানপুর ও ইছাখালী ইউনিয়নের পাতাকোট, ভূঁইয়া গ্রাম ও বাঁশখালী গ্রামের মো. ফরহাদ, মো. রিয়াদ, মোবারক হোসেন পারভেজ ও মো. সাইফুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জোরারগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (১৬৬) দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নুর হোসেন মামুন বলেন, মাটি কাটার বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করলে বা মামলা দায়ের করলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো এবং উপজেলা প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করবো।
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, মাটি কাটার বিষয়ে আমরা সর্বদা তৎপর রয়েছি। কোথাও এ ধরণের ঘটনা ঘটলে খবর পাওয়া মাত্র আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
