সরকারের ‘দুর্নীতির’ কারণেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, “চালের দাম, তেলের দাম তো বাড়তেই আছে, পেঁয়াজের দাম বাড়তেই আছে। কারণ একটাই, আপনারা সব লুট করছেন, চুরি করছেন, ডাকাতি করছেন।
“আর যারা দাম বাড়াচ্ছে তারা সব আওয়ামী লীগের সদস্য, আওয়ামী লীগের লোক।”
শুক্রবার (১১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কৃষক দল আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, “সারা দেশ চিৎকার করছে, সারা দেশের মানুষ বলছে যে, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে, আমি আর পারছি না। তাতে কিছু যায় আসে না; না, ঠিক আছে। উন্নয়ন তো হচ্ছে।
“প্রধানমন্ত্রী বললেন কী? রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ এটা আমাদেরকে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা আরেকটা মিথ্যা কথা, না? কারণ ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের আগে থেকেই তো দাম বাড়ছে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব। আমাদের আওয়ামী লীগের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেছেন, বিএনপি যদি ভোটে না যায়, আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কথা বলতে থাকে তারা অতল জলে ডুবে যাবে। ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলতে চাই, নিরপেক্ষ সরকারে এত ভয় কেন? এত ভয় কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের? নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার দিয়ে দেখুন।’
নেতাকর্মীদেরকে উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যদি এই সরকারকে সরাতে পারি এবং ভবিষ্যতে যদি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সরকার আবার আসতে পারে তাহলে অবশ্যই আমরা কৃষির সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হব। কিন্তু এটা কি এমনি হবে? এই আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে কি হবে? তাহলে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরাতে হবে।
আর কোন কথা নয় বলে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘একটাই কথা যে, এখন সরে যাও। অনেক হয়েছে। অনেক অত্যাচার ও নির্যাতন করেছেন। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের গুম করেছেন। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হলে এই সরকারকে সরাতে হবে। তাই মানে মানে সরে যান (সরকার)। নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করেন।’
