রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: স্বামী ও ৬ মেয়েকে নিয়ে ছোট্ট একটি পুরোনো ভাঙা ঘরে বসবাস নুরজাহান বেগমের (৪০)। ভ্যানচালক স্বামীর সামান্য উপার্জন দিয়ে খেয়ে না খেয়ে বড় কষ্টে জীবনযুদ্ধে টিকে আছেন তারা।
দীর্ঘদিন ধরে ৮ জনের থাকার একমাত্র ঘরটি ভেঙে থাকলেও টাকার অভাবে মেরামত করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে নতুন ঘর করার আশায় বুক বাঁধেন তারা। আর স্বপ্নের সেই নতুন ঘর তৈরির জন্য এনজিও থেকে নেন ৪৫ হাজার টাকা ঋণ।
কিন্তু বিধিবাম, দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পথেই ভঙ্গ। ঋণের সেই ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরা যে হবে না কে জানত। সড়কে টাকাগুলো হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় নুরজাহান বেগম। শিশু মেয়েকে কোলে নিয়ে দরিদ্র নুরজাহানের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম।
সরেজমিনে উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের নারায়নদহ গ্রামের নুরজাহানের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তালগাছি বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি এনজিও থেকে ঋণের ৪৫ হাজার টাকা একটি পুটলিতে নিয়ে ৩টি শিশু মেয়ে সন্তানসহ বাঘাবাড়িতে বোনের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অটোভ্যানে রওনা হন।

পথিমধ্যে পারকোলা নামক স্থানে এসে নুরজাহান বেগম বুঝতে পারেন তার টাকার পুটলিটা হারিয়ে গেছে। তৎক্ষনাত তিনি কান্নাকাটি শুরু করে দেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তার কাছে বিষয়টি জানতে পেরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন। কিন্তু ৪৫ হাজার টাকার সেই পুটলিটা আর পাওয়া যায়না। পরে আহাজারি করতে করতে নুরজাহান বেগম মেয়েদের নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
প্রতিবেশীরা জানায়, টাকার শোকে বাড়িতে এসে নুরজাহান বেগম টাকার শোকে বারবার জ্ঞান হারাতে থাকেন।নুরজাহান বেগমের স্বামী একজন ভ্যানচালক, তাদের ৬টি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
নুরজাহান বেগমের বাড়িতে দেখা যায়, পাটখড়ের দীর্ঘদিন পুরনো একটি ঘর রয়েছে। এই ঘরেই গাদাগাদি করে ৬ মেয়েকে নিয়ে তারা খুব কষ্টে জীবনযাপন করে থাকেন। ঘরটির বাশের খুটিগুলো মাটির নিচ থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে আলাদা হালকা বাঁশের খুটি দিয়ে বাইরে থেকে ধাক্কা দিয়ে রাখা হয়েছে যেনো পড়ে না যায়। ঘরের পাট খড়ের বেড়াটি নষ্ট হয়ে গেছে, বাইরে থেকে ঘরের ভেতরে দেখা যায় তাই চট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

নুরজাহান বেগমের শশুর গোলাম মোস্তফা বলেন, ৬টি নাতনী নিয়ে আমার ছেলে ও বৌ খুব কষ্টে জীর্ণ ঘরে জীবনযাপন করে তাই নতুন একটি ঘর করার জন্য একটি এনজিও থেকে ৪৫ হাজার টাকা ঋণ নেয়। কিন্তু গরিবের কপালে সুখ সহ্য হয়না, ঋণের টাকা উত্তোলন করে আসার পথে টাকা হারিয়ে যায়।
নুরজাহান বেগমের স্বামী ভ্যানচালক সফিজ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, এখন আমি কিভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবো আমি বুঝতে পারছি না। আমার কুড়ে ঘর থেকে একটা নতুন ঘর করার স্বপ্ন দেখেছিলাম, নতুন ঘর হলে বড় মেয়ের বিয়ে দিতে পারতাম আর অন্যান্য মেয়েদের ঝড় বৃষ্টিতে নিরাপদে থাকতে পারতাম।
তিনি তার অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি ও একটি ঘরের জন্য সমাজের মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সাহায্য পাঠাতে ও যোগাযোগ করার মোবাইল- ০১৭১৭ ০৯৯৩১৩ (সাংবাদিক রাজিব আহমেদ রাসেল)
