মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুদকের মামলায় চট্টগ্রাম আদালতে হাজিরা দেয়ার পর প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় চিৎকার করতে করতে এমন দাবি করে সে।
ওসি প্রদীপ বলেন, আমি ইয়াবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। কোনো অন্যায় না করেও শাস্তি পেয়েছি। এ সময় ওসি প্রদীপকে ঘিরে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে কথা বলতে না দিয়ে দ্রুতই প্রিজন ভ্যানে তুলে ফেলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে চট্টগ্রাম আদালতে নেয়া হয় প্রদীপ কুমারকে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, ‘প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল আজ। তবে হাইকোর্টে এ মামলার বিরুদ্ধে একটি আবেদন শুনানির অপেক্ষায় আছে বলে জানান তার আইনজীবীরা। সেটি নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত রাখার জন্য আদালতে আবেদন জানান তারা। শুনানি শেষে আদালত তা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। তবে স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে বলে আদেশ দেন বিচারক।’
ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
২০২১ সালের ২৬ জুলাই ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। এতে সাক্ষী করা হয় ২৯ জনকে।
পরে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর মামলাটির অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত। এই মামলায় প্রদীপের স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।





