ঠাকুরগাঁও- বিএনপি মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা সমাবেশ করছি, তবে করোনার কারণে একটু বন্ধ রয়েছে। সামনের দিনে আরও আন্দোলন হবে।
রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা আন্দোলন বলতে যেটা দেখতে চান সেটা হলো হরতাল। কিন্তু আপনাদের বুঝতে ডেমোক্রেট রাজনৈতিক দল থাকলে এ জাতীয় আন্দোলন কাজে লাগে, কিন্তু বর্তমানে তো সে জাতীয় দল ক্ষমতায় নেই। আমরা বিভিন্ন কৌশল নিয়ে এগুচ্ছি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, ফ্যাসিবাদের লক্ষ্যই হলো এটা, মানুষকে আপনার স্তব্ধ করে দেওয়া, ভীতি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা, এটা একটা প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিন এমন থাকলে সবাই তা মেনে নিতে শুরু করে। এ অবস্থায় কিন্তু বাংলাদেশ বর্তমানে চলছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সকলকে সচেতন হতে হবে, ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ সকল শ্রেণীপেশার মানুষকে বেরিয়ে আসতে হবে, তাদের অধিকারের জন্য। দেশকে রক্ষা করার জন্য। সমাজকে রক্ষা করার জন্য তাদের স্বোচ্চার হতে হবে।
তিনি বলেন, ইসির ব্যর্থতা, সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যর্থতা, দেশ পরিচালনার ব্যর্থতা সব দায় আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ দায় কোনভাবেই এড়াতে পারবে না। সার্চ কমিটি নিয়ে আ’লীগ কি সিদ্ধান্ত নেবে তা আমরা বলতে পারি না। তারা যদি বিএনপিকে নিয়ে কথা বলে, সেটা বলতে পারে তবে তা কতটুকু সমিচীন হবে তা ভেবে দেখা দরকার।
সার্চ কমিটির তালিকা তৈরীর ক্ষেত্রে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আ’লীগ সরকারের অধিনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না, এটা পরিক্ষিত সত্য। আমরা জাতীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছি, এই সার্চ কমিটির তালিকা আমাদের কাছে গ্রহনযোগ্য নয় এমনকি নির্বাচন কমিশনও আমাদের কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। সার্চ কমিটি সম্পর্কে আমাদের কোন আগ্রহ নেই। কমিটির যাকে প্রধান করা হয়েছে তিনি নিজেই আ’লীগের নমিনেশন প্রত্যাশি ছিলেন। তার পিতা আ’লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার ভাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছিলেন। সেখানে আমরা কি করে আশা করতে পারি এই সার্চ কমিটি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সেখানে আরও একজন আছেন, যারা এর আগে নির্বাচন কমিশনে ছিলেন তাদের ভূমিকা আমরা দেখেছি। সুতরাং নিরপেক্ষতা প্রশ্ন আসতে পারে না এবং সেগুলো আইন শৃংখলা বাহিনীর পোশাকে তাদের তুলে নেওয়া হয়।
