সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: রংপুর সোনালী ব্যাংক লিমিটেড প্রিন্সিপাল অফিসের টাকা বহনকারী মাইক্রোবাসের উপর হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এসময় ব্যাংকের গাড়ি ভাংচুর করা হয়, দুই আনসার সদস্য, চালক ও একজন ক্যাশ অফিসারসহ আহত হয়েছেন চারজন। দিনে-দুপুরে ব্যাংকের টাকা পরিবহনের গাড়িতে সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনাটি জেলার ১৮টি শাখায় প্রভাব ফেলেছে।
এঘটনায় রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী থানায় একটি অভিযোগ করেছেন মাইক্রোবাস চালক শাহিনুর ইসলাম। তবে এই ঘটনায় দোষীরা চিহ্নিত হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখনো কোন আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করেনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকালে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড করপোরেট শাখার ক্যাশ রেমিটেন্সের মাইক্রোবাস নিয়ে (ঢাকা মেট্টো-চ-৫৬৪৮৩২) সোনালী ব্যাংক সিও বাজার শাখা হতে ৮০ লাখ টাকা নিয়ে আসার সময় একজন অপরিচিত বয়স্ক মানুষ মাইক্রোবাসে উঠে পরেন। তখন চালক লোকটিকে মাইক্রোবাস থেকে নেমে যেতে বলেন।
পরে সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুর রহমান দলবল নিয়ে এসে মাইক্রোবাসে থাকা আনসার সদস্য আবু বক্কর সদ্দিক ও গনেশ চন্দ্র রায়কে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।
এসময় ক্যাশ অফিসার হারুন অর রশীদ বাঁধা দিলে তাকের নির্যাতন করা হয়। ট্রাংকে থাকা ৮৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিতে চাইলে দুই আনসার সদস্য জীবন বাজী রেখে তা রক্ষা করেন। ভাংচুর করা হয় মাইক্রোবাসটি, পরে খবর পেয়ে পরশুরাম থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
এদিকে রংপুর মহানগর পুলিশের উপ সহকারী পুলিশ কমিশনার আলতাব হোসেন জানিয়েছেন, এঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা করলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুর রহমানের সাথে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাদের দলীয় লোকজন ভূল করে ব্যাংকের মাইক্রোবাসে উঠে পরে। এতে আনসার সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হয়। এটি শুধুমাত্র একটি ভূল বোঝাবুঝি, কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নয়।
হামলার ঘটনায় সোনালী ব্যাংক লিমিটেড প্রিন্সিপাল অফিস রংপুররের ডিজিএম আব্দুল বারেক চৌধরী জানিয়েছেন, ঘটনার পরেই থানায় একটি সাধারন ডাইরি করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জরিতদের আইনের আওতায় আনতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ব্যাংকের অঞ্চল প্রধান রশিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার দিন মামলা না হওয়ার কারন হিসাবে ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এর নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন। অনুমতি না পাওয়ায় মামলা হয়নি।
