নাগরপুরে নিজ অর্থায়নে দুর্ভোগ নিরসনে বাঁশ-কাঠের সেতু নির্মাণ করছেন সমেজ

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভাদ্রা ইউনিয়নের কাওনহোলা এলাকার বাসিন্দা মোঃ সমেজ নিজ উদ্যোগে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে প্রায় ২ লক্ষ টাকা খরচ করে ২৬০ ফুট একটি বাঁশ-কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন।

উপজেলার মেঘনা বনগ্রাম বাজার থেকে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভায়া সেহরাইল সড়কের কাওনহোলা এলাকায় এই দৃষ্টি নন্দন বাঁশ-কাঠের এই সেতুর অবস্থান। দীর্ঘ দিন যাবৎ এলাকায় একটি সেতুর অভাবে এলাকাবাসীর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার নাজেহাল অবস্থা বিরাজ করতো।

এমতাবস্থায় এলাকাবাসীর অনুপ্রেরণায় মোঃ সমেজ নিজ খরচে প্রায় ২ বছর আগে রিক্সা,ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল উপযোগী একটি লম্বা বাঁশ-কাঠের সেতু নির্মাণ করে এবং এলাকাবাসীর নির্ধারিত ফি অনুযায়ী টোল আদায়ে চলছে সেতু পারাপার কার্যক্রম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ এই সেতুটি বাঁশ-কাঠের সম্মিলিত শক্ত নির্মাণে নিরাপদ চলাচল উপযোগী ভাবেই নির্মিত হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় হাজারো জনগণের চলাচলের এই সেতুতে অনায়াসে মোটরসাইকেল, ভ্যান সহ ছোট যানবাহন চলাচল করে। সেতুর একপাশে ছোট ঘর উঠিয়ে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে চলছে নামমাত্র টোল আদাই কার্যক্রম।

এতে একদিকে সমেজের বাড়তি আয়ের পাশাপাশি এলাকাবাসী ব্যাপক উপকৃত হচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসী রফিকুল ইসলাম বলেন, এখানে সেতু নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসীর যাতায়াতে অনেক সুবিধা হয়েছে। এই সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ সমেজ নিজেই করেন এবং রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ সেতু পারাপারে টোল নেওয়া হয়।

সেতু নির্মাণকারী মোঃ সমেজ বলেন, আমি নিজ খরচে এই সেতু নির্মাণ করেছি। এলাকাবাসী সেতু পারাপারে কিছু কিছু টাকা আমাকে দেয়। এতেই আমি খুশি। সেতু নির্মাণ হওয়ায় এলাকার সবাই অনেক উপকার পাচ্ছে। ভাদ্রা ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য (মেম্বার) লুৎফর
রহমান বাবুল জানায়, সমেজ গরিব মানুষ। আমরা এলাকাবাসী মিলে তাকে দেখাশুনা করি। সেতু নির্মাণ হওয়ায় অনেক উপকার
হয়েছে আমাদের। আশাকরি দ্রুত এখানে ব্রীজ নির্মাণ হবে।

উল্লেখ্য, কাওনহোলা এই বাঁশ-কাঠের সেতুটি নির্মিত হয়েছে ২০১৯ সালে। প্রায় ৩ বছর যাবৎ বিভিন্ন সংস্কারের মধ্যেই চলছে সেতুতে যাতায়াত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *