নাগরপুরে বাশের সাঁকো ব্যবহারে ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের কোকাদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীদের অতিমাত্রায় ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হয়। স্কুলের মূল সড়কের পাশে নির্মিত বক্স কালভার্ট সেতুতে এপ্রোচ সড়ক না থাকায় বাঁশের পুল ব্যবহারের ফলে এই ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২০টির অধিক পরিবারের যাতায়াত সাধন হয় ঝুঁকিপূর্ণ এই কালভার্ট সেতু দিয়ে। এতে স্কুলের শিক্ষকসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজমান।

বিদ্যালয়ে প্রবেশের ঝুঁকি প্রসঙ্গে কোকাদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সয়েল মিয়া বলেন, গত বছর বন্যায় এই কালভার্ট সেতুর দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে সেতুটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যাপক ঝুঁকি বিদ্যমান। আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি অতিদ্রুত যেন এই সেতুর সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করা হয়।

একই বিষয়ে আরেক সহকারী শিক্ষক শারমীন আক্তার জানায়, প্রতি বছর বন্যায় সম্পূর্ণ বিদ্যালয় প্লাবিত অবস্থায় থাকে এবং এই কালভার্ট সেতু বন্যা আসলেই চলাচল অনুপযোগী হয়ে যায়। বর্তমানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে কালভার্ট সেতু দিয়ে নামতে হয় এবং যাতায়াত করতে হয়। এই বিষয়ে আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তারা যেন দ্রুত এই কালভার্ট সেতু সংস্কার করে চলাচল উপযোগী পথ করে দেয়।

উক্ত বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জেসমিন সুলতানা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অনেক অসুবিধা হয়। বন্যার কারণে কালভার্ট সেতুর সড়কে মাটি সরে যায় ফলে শিক্ষকদের পরামর্শে আমরা আপাতত সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেতু থেকে নামার পথে কাঠের তৈরি পথ নির্মাণের।

বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল সম্পর্কে কোকাদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনা আক্তার এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং স্কুল সময়ে তাকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাওয়া যায়নি।

কালভার্ট সেতুর বেহাল অবস্থা ও শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত সম্পর্কে সহবতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ মোল্লা বলেন, কোকাদাইর স্কুলের কালভার্ট সেতুটি নির্মাণের সময় ও পরবর্তীতে আমি কয়েকবার মাটি ভরাট করেছি। কিন্তু বন্যায় বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতুসহ এপ্রোচ সড়কটি। আমরা ইতিমধ্যে কোকাদাইর সড়কের কাজ ধরেছি। সড়কের কাজের সাথে সাথে আবারো সেখানে সেতুর দুইপাশের এপ্রোচ সড়কের জন্য মাটি ভরাট করে দিয়ে চলাচল উপযোগী করে সংস্কার দিবো।

উল্লেখ্য, সহবতপুরের কোকাদাইর এলাকা তুলনামূলক নিম্নাঞ্চল হওয়ায় বন্যায় সড়কসহ অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। কোকাদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশের কালভার্ট সেতুটির দুইপাশের এপ্রোচ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে যাতায়াত করে প্রায় শতাধিক স্কুল শিক্ষার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *