রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আধিপত্ব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ইয়ারমিন (৩৫) নামের একজন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে প্রায় ৭০ জন। নিহত ইয়ারমিন ইউনুস মোল্লার ছেলে।
জানা যায়, বুধবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় উপজেলার রুপবাটি ইউনিয়নের বাঘাবাড়ি গ্রামের মোল্লা গ্রুপ ও ঐক্যজোট গ্রুপের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষই ফালা, রামদা, কোপা দা, শাবল, লোহার রডসহ প্রভৃতি দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত ছিলো। সংঘর্ষের ফলে বাঘাবাড়ি-চাটমোহর আঞ্চলিক সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন ঐক্যজোট গ্রুপের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের অভিযোগ করে মোল্লা গ্রুপের লোকজন। এসময় জলিল মোল্লা, মিন্টু মোল্লা, নবীর আলী, মোজাফফর মোল্লা, জাকের মোল্লা ও মুকুল মোল্লার বাড়িঘর ভাঙচুর ও গোয়ালের গরু লুটপাটের অভিযোগ করা হয়। সংঘর্ষের সময় মজনু সরকার নামের একজন পথাচারীর মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জন আহত হয়, এদের মধ্যে মোল্লা গ্রুপের ইউনুস মোল্লার ছেলে ইয়ারমিন (৩৫) নামের একজন বেড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরলে মোল্লা গ্রুপের লোকজনের মাঝে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এসময় মোল্লা গ্রুপের লোকজন ঐক্যজোট গ্রুপের প্রধান লতিফ চেয়ারম্যান সহ তার সমর্থকদের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
পরবর্তী হামলা ও লুটপাটের ভয়ে গ্রামবাসী ও উভয় পক্ষের জনসাধারণ তাদের বাড়ি ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র ও গরুছাগল অন্যত্র সরিয়ে রাখতে দেখা যায়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল হোসেন ও থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খানের নেতৃত্বে থানা পুলিশের বিপুল সংখ্যাক সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, পরবর্তীতে যেনো আইনশৃংখলার অবনতি না হয় সেজন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষ, লুটপাট ও মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই মামলা করেনি, মামলা হলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা করা হবে।
