সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: রংপুরের পীরগাছায় ৭ বছরের শিশু কন্যা রিয়ামনিকে অপহরণ করে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি না না পাওয়ায় শিশুটিকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে লাশ বাড়ির সেফটি ট্যাংকে ফেলে রাখার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামীকে আমৃত্যু কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের নারী শিশু নির্যাতন দমন আদালত ২ এর বিচারক রোকনুজ্জামান এ আদেশ দেন।
মামলার বিবরনে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পরান তাম্বূলপুর গ্রামে আব্দুর রহিমের ৭ বছরের বয়সী প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রিয়া মনিকে আসামী সালাহ উদ্দিন ও রাসেল সহ অন্যান্যরা ম্যাংগো জুশ খাওয়ানোর কথা বলে অপহরন করে নিয়ে যায়।
এরপর অপহরনকারীরা রিয়ার বাবা ও স্বজনদের মোবাইল ফোনে ফোন করে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। টাকা না পাওয়ায় আসামীরা রিয়া মনিকে ম্যাংগো জুশের মধ্যে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে খাইয়ে গলায় পা দিয়ে চেয়ে ধরে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে তার লাশ আসামীদের বাড়ির অদুরে একটি সেফটি ট্যাংকে ফেলে দেয়।
এ ঘটনায় মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসামী রাসেলকে পুলিশ গ্রেফতার করলে সে তার সহযোগী সালাউদ্দিনের নাম বলে পুলিশ তাকেও গ্রেফতার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২৫ দিন পর বাড়ির পার্শ্বে এক ব্যাক্তির বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে নিহত রিয়া মনির লাশ উদ্ধার করে।
নিহত রিয়া মনির বাবা আব্দুর রহিম বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে পুলিশ আসামী রাসেল ও সালাহ উদ্দিন সহ ৭ আসামীদের বিরুদ্ধে আ্দালতে চার্জসীট দাখিল করে।
নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত ২ এর পিপি জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন জানান, মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেলা শেষে আদালত আসামী সালাহ উদ্দিন ও রাসেলকে দোষি সাব্যস্ত করে আমৃতু কারাদন্ডের আদেশ দেন। মামলার অপর ৫ আসমামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত।
রায় ঘোষনায় সময় আসামী রাসেল কাঠ গড়ায় উপস্থিত ছিলো অন্যদিকে আসামী সালাহ উদ্দিন পলাতক থাকায় তার নামে গ্রেফতারী পরোয়ান া জারির আদেশ দেন আদালত।
