রাতে কমবে শীত, বাড়বে দিনে: আবহাওয়া অফিস

নজর২৪ ডেস্ক- পঞ্চগড় ছাড়া দেশের কোথাও আর শৈত্যপ্রবাহ নেই। কয়েকদিন ধরে দিনে নরম রোদ আর সন্ধ্যার পর হালকা শীত থাকছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত থাকছে মাঝারি কুয়াশা। বর্তমান আবহাওয়ায় দেশে রাতে তাপমাত্রা বাড়লেও কমবে দিনে।

 

মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা আবহাওয়া অফিস।

 

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এই অবস্থায় বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত কুষ্টিয়া ও টাঙ্গাইল অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী এবং ময়মনসিংহ বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা/গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

 

এ সময় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাবে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাবে। ঢাকায় উত্তর/উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় এ সময় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ৫-১০ কিলোমিটার। বৃহস্পতিবার নাগাদ আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার শুরুতে রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে।

 

মঙ্গলবার দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায়, ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে, ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যথাক্রমে ২৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ১৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

আগের সংবাদ পড়ুন-

ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে অবাক করা তথ্য দিলো আবহাওয়া অফিস

 

নজর২৪ ডেস্ক- পৌষ মাসের শুরুতেই চলতি মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। তবে গত কয়েকদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ নেই। যদিও ভোরে ও সন্ধ্যায় শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি। ঘরের বাইরে বের হলে গরম কাপড় চাপাতে হচ্ছে গায়ে।

 

তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব শুনলে এখন হয়তো অনেকে একটু অবাকই হবেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, গত পাঁচ বছরে ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ হয়েছে মাত্র একবার। আর আশপাশের এলাকা থেকে মূল ঢাকায় তাপমাত্রা থাকছে তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। অর্থাৎ সাভার বা টাঙ্গাইলের তুলনায় ঢাকায় শীত পড়ছে কম।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে সেটি শৈত্যপ্রবাহ। গত সোমবার ঢাকার পাশের জেলা টাঙ্গাইলের তাপমাত্রা নেমেছিল শৈত্যপ্রবাহের কাছাকাছি, ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তাতেই রাজধানীবাসী শীতের আমেজ পেয়েছে।

 

গত ৩০ বছরে ঢাকার আবহাওয়ার গড় তাপমাত্রার রেকর্ড বলছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ার কথা। কিন্তু গত ৬ বছরে ঢাকার গড় তাপমাত্রা নিলে তা কোনোভাবেই ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি। ব্যতিক্রম ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি। ওই দিন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়।

 

এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে শৈত্যপ্রবাহ চলাকালীন ঢাকার তাপমাত্রা বেশির ভাগ সময় ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে। এমনকি সারা দেশে শৈত্যপ্রবাহ চললেও ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে শৈত্যপ্রবাহ থাকছে না।

 

এর বড় কারণ ঢাকার অতিরিক্ত জনসংখ্যা, ভবন-অবকাঠামো ও যানবাহনের কারণে সৃষ্টি হওয়া বাড়তি তাপমাত্রা। এখানে সব সময় দেশের অন্য যেকোনো গ্রামীণ এলাকার চেয়ে তাপমাত্রা তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে বাংলাদেশে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কে শীতকাল ধরা হয়। এ সময়ে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার কথা। চট্টগ্রামে ১৩ থেকে ১৬ ডিগ্রি। দেশের বেশির ভাগ এলাকায় শীতকালে ৬ থেকে ১০টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। পাঁচ বছরে ঢাকায় মাত্র একবার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। শীতকালে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *