তামিমা আমার স্ত্রী, কিন্তু গর্ভের সন্তান কার: রাকিব

নজর২৪ ডেস্ক- ডিভোর্স ছাড়া অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী বিমানের কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানা তাম্মিসহ তিনজনের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকা অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন আদালত এই জামিনে আদেশ দেন। মামলার অপর আসামি হলেন— তামিমার মা সুমি আক্তার।

 

সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে শুনানি শেষে বিচারক জামিনের এই আদেশ দেন। এদিন মামলার শুনানিতে তাম্মি দাবি করেছেন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি। আমার গর্ভে থাকা সন্তান নাসির হোসেনের ঔরসজাত সন্তান।

 

এদিকে তামিমার সাবেক রাকিব হাসান বলে আসছেন, তামিমা এখনও তার স্ত্রী এবং তাদের দাম্পত্য জীবনে তুবা মণি নামের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। অন্যদিকে তামিমা বলছেন, রাকিবের সঙ্গে তার ডিভোর্স হয়ে গেছে। কিন্তু রাকিব সেটিকে পুরোপুরি নাকচ করে সংবাদমাধ্যমকে বলছেন- তামিমা এখনও আমার স্ত্রী। গত ১০ মাস তার সঙ্গে আমার একান্তে সময় কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে সে কেমন করে গর্ভবতী হলো?

 

তিনি বলেন, ক্রিকেটার নাসিরের সঙ্গে তার যে বিয়ে হয়েছে, সেটি অবৈধ। যে কারণে আমি মামলা দায়ের করেছি। পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদনে আমার অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে এসেছে। আদালতে এই মামলা নিষ্পত্তির আগে কেমন করে আমার স্ত্রী তামিমা অন্য পুরুষের সঙ্গ নিয়ে মা হতে চলছে! এখন আমার একটাই প্রশ্ন- স্ত্রী আমার, তাহলে তার গর্ভের সন্তান কার?

 

রাকিব বলেন, আমি বলবো- নাসিরের সঙ্গে তামিমার বিয়ে অবৈধ, ফলে তারা এখন ব্যাভিচারে লিপ্ত রয়েছে। এই সম্পর্কের মাধ্যমে গর্ভে ধারণ করা সন্তানও অবৈধ। অথচ, তামিমার সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে তুবা মনি নামের আমার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মা হয়েও সেই সন্তানের খোঁজ খবর নিচ্ছে না তামিমা। এর ওপর আবার নতুন একটি সন্তানকে অবৈধভাবে পৃথিবীতে এনে বেকায়দায় ফেলার পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। আদালতের সিম্পেথি পাওয়ার জন্য নাসির-তামিমা এমনটা করেছে।

 

রাকিব আরও বলেন, তামিমা নিজ সন্তান তুবাকে কষ্ট দিচ্ছে, এরমধ্যে আরও একটি সন্তান গর্ভ ধারণ করেছে। এটা কি অপরাধ না। যে সন্তান পৃথিবীতে আসার অপেক্ষায় আছে, সে কাকে বাবা পরিচয় দিবে? কার পরিচয়ে বেড়ে উঠবে সে? আমি স্পষ্ট বলতে চাই, আমি ওই বাচ্চার পরিচয় দেব না। নাসিরের বাচ্চা নাসিরের কাছে ফেরত দিয়ে দেব।

 

নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে ‘অবৈধ বিয়ের’ মামলা তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দাখিল করা চার্জশিটের ভাষ্য অনুযায়ী, তামিমা রাকিবকে তালাক দেননি। লিগ্যালভাবে রাকিব তালাকের কোনো নোটিশও পাননি। তামিমা উল্টো জালিয়াতি করে তালাকের নোটিশ তৈরি করে তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। যথাযথ প্রক্রিয়ায় তালাক না দেওয়ার ফলে তামিমা সুলতানা এখনও রাকিবের স্ত্রী বহাল রয়েছেন। দেশের ধর্মীয় বিধিবিধান ও আইন অনুযায়ী এক স্বামীকে তালাক না দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করা অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমার বিয়ে অবৈধ।

 

এসব বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করে রাকিব হাসান বলেন, আমার দায়ের করা মামলায় হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে গতকাল একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছে তামিমা। যেখানে তিনি নিজেকে গর্ভবতী বলে উল্লেখ করেছে। তবে আদালতে সেটি গ্রহণ করেনি। এমন পরিস্থিতিতে আমি বারবার বলতে চাই- তামিমা সুলতানা এখনও আমার স্ত্রী। আমি তাকে ডিভোর্স দেইনি। তামিমা সুলতানা আমার স্ত্রী থাকা অবস্থাতেই ক্রিকেটার নাসির হোসেন তাকে অবৈধভাবে বিয়ে করেছে। যেটি করতে গিয়ে তারা ভুয়া তালাকনামা তৈরি করেছে। নাসিরের সঙ্গে আমার স্ত্রী তামিমার বিয়ে অবৈধ হওয়া আমি মামলা দায়ের করি। যেটি এখন আদালতের ট্রায়ালে রয়েছে। সেই অবৈধ বিয়ে করার মামলা নিষ্পত্তি না হতেই নাসির-তামিমা ১০ মাস এক সঙ্গে অবস্থান করে। যার ফলে তামিমা এখন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এর ফলে জটিলতা আরও বাড়ল।

 

আমি যেহেতু সত্য, সেহেতু প্রত্যাশা করবো আদালত নিশ্চই ন্যায় বিচার করবেন এবং আমার স্ত্রী তামিমাকে আমার কাছে ফেরত দেবে। তবে যদি তা’ই হয় তামিমার গর্ভে থাকা সন্তানের দায়-দায়িত্ব আমি নেব না। কারণ গত ১০ মাস আমার সঙ্গে তামিমা ছিল না, এখন সে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমি মামলা দায়ের করার ৪ মাস পর তামিমা গর্ভবতী। এ বিষয়টিও নিষ্পত্তি করতে নিশ্চই আদালত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যদি প্রমাণ হয় ওই সন্তান নাসিরের, তাহলে নাসিরের কাছেই ওই সন্তান ফেরত দেওয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার প্রথম স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এ মামলা করেন। ওই দিনই আদালত বাদীর জবান বন্দি গ্রহণ করেন। শুনানি শেষে মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তামিমা পেশায় একজন কেবিন ক্রু। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *