নজর২৪ ডেস্ক- তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান ফেসবুক লাইভে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান ও নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের নিয়েও অনুরূপ বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রলীগের নেত্রীদের নিয়ে তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে মুরাদ হাসানকে প্রত্যাখ্যান করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা। তারা বলছেন, নারীর প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে মুরাদকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি এবং কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার বলেন, ‘শুধু ছাত্রলীগ নয়, আওয়ামী লীগের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে। যেই বঙ্গবন্ধু নারীদের এতো উপরের আসনে আসীন করেছেন, সেই বঙ্গবন্ধুর নামে রাজনীতি করে যদি কেউ নারীদের নিয়ে কটূক্তি করে এ ধরনের মন্তব্য করে সে আসলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসই করে না।’
বঙ্গবন্ধুর প্রতি যাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আছে তাদের কেউ প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে সমর্থন করতে পারে না বলে মনে করেন তিলোত্তমা। তিনি বলেন, ‘জাতির সামনে এসে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি উনাকে তার এই বক্তব্য উঠিয়ে নিতে হবে।’
তিলোত্তমা বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী নেতৃত্বের আলেকবর্তিকা নিয়ে সারা বিশ্বে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীও নারীর প্রতি এ ধরনের কোন বক্তব্যকে প্রশ্রয় ও সমর্থন করবেন না বলে আমি বিশ্বাস করি।’
গণমাধ্যমে এসে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগ শামসুন নাহার হল শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা।
নিজের ফেসবুকে লেখা স্ট্যাটাসে এই ছাত্রলীগ নেত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসা কোন ব্যক্তির মুখের ভাষার এই শ্রী শুনে মনে হচ্ছে আমরা দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। এসব নিয়ে কথা বলার রুচি আসলেই নাই। কিন্তু ডোন্ট কেয়ার মুডে থাকলে বা নীরব থাকলে সমাজের অতি বুঝদার শ্রেণী মনে করে অপরাধী, তাই হয়ত চুপ মেরে আছে।’
এসব প্রসঙ্গে কথা বলা উচিত বলে মনে করেন জিয়াসমিন শান্তা। তিনি বলেন, ‘আমাদেরই বলতে হবে; নয়তো এসব ফালতু লোকের মুখ দিয়ে বের হওয়া বিষে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। এই লোক এতবড় স্পর্ধা নিয়ে কথা বলে যদি বহালতবিয়্যতে থাকে তাহলে দলের সবাইকে বলছি-রাজনীতি করা একটি মেয়েও যদি নৈতিক, চরিত্রবান থেকে থাকে তার দীর্ঘশ্বাস থেকে কেউ রক্ষা পাবে না।’
শান্তা বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী সাহেব, চাওয়া বা যোগ্যতার চেয়ে বেশি পেয়ে গেছেন। তাই হজম না হয়ে বদহজম হওয়াতেই এসব কথাবার্তা বলছেন। আপনার রিহ্যাবে যাওয়া উচিত।’
প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে ‘সাইকো’ ছাড়া আর কিছুই মনে হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর বাতুল লোক সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় পদে থাকার যোগ্য নয়। তার যে মুখের ভাষা সে মুখে পবিত্র জয়বাংলার কথা শুনলে লজ্জা, ঘৃণা ও ক্রোধ হয়।
ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সাংবিধানিক জায়গা থেকে কোনো নারীর প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা আসলে আধুনিকতাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং রক্ষণশীলতাকে প্রশ্রয় দেওয়া৷ এ ধরনের বক্তব্য আমরা কোনভাবেই প্রত্যাশা করি না। এ ধরনের বক্তব্য দুঃখজনক৷’
নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করে আগে থেকেই তীব্র সমালোচনার মধ্যে আছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। এর মধ্যে একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে তোপের মুখে পড়েন তিনি।
তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার মধ্যে সোমবার রাতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, মুরাদকে মঙ্গলবারের মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
