নজর২৪ ডেস্ক- বাংলাদেশ ছাত্র, যুব, শ্রমিক ও পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সদ্য গঠিত রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেছেন, আমরা আজকের এই অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে করতে চেয়েছিলাম। যে কারণে ছোট্ট পরিসরে আমরা এটি করছি। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য তো আমরা কারও কাছে অনুমতি নিতে যাবো না। রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার এদেশের সংবিধান দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে দলের ঘোষণা দেওয়ার প্রাক্কালে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা জায়গা চেয়েছিলাম কিন্তু পাইনি। যার কারণে এখানে ছোট পরিসরে করতে হচ্ছে। আমরা আর কাউকে এজন্য বলিনি। নিরস্ত্র সভা সমাবেশ করার অধিকার এদেশের সংবিধান দিয়েছে। পুলিশের কাছে কিন্তু আমরা অনুমতি চাইনি। আমরা বাইরে একটা সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। যেখানে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে।
আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার জন্য আমরা বলেছিলাম। জাফরুল্লাহ স্যার-সহ কিছু বিদেশি মেহমান থাকতো, তাদের নিরাপত্তার জন্য চেয়েছিলাম। সেটা তারা সহযোগিতা করেনি। সেজন্য আমরা অল্প পরিসরে অনুষ্ঠান করছি। কিন্তু আন্দোলন সংগ্রাম করার জন্য কারও কাছে আমরা অনুমতি নেবো না। আমরা সেই উত্থান দেখিয়েছি, কোটা সংস্কার আন্দোলনে। ছাত্রসমাজের সঙ্গে কিন্তু আমরা বেইমানি করিনি। দাবি কিন্তু আদায় করছি। তাই আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে শুধু ছাত্রসমাজ না, নানা পেশার মানুষ এখানে আছে, তাদের মাধ্যমেই আগামী দিনে মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করতে পারবো।’
অন্য দলের সঙ্গে জোট গঠন প্রসঙ্গে নুর বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন মেনে যারা রাজনীতি করতে পারে, বর্তমান সংকটে যারা রাজনীতির মাঠে লড়াই সংগ্রাম করতে প্রস্তুত, তাদের সঙ্গে নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে জোটগত আন্দোলন হতে পারে। কারণ, এই দায়িত্ব আমাদের একার না, আর আমরা একা পারবো না। সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারে ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ‘গণ অধিকার পরিষদ’ নামে নতুন এই দলের ঘোষণা দেওয়া হয়। দলটির ৮৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাও করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন নতুন এই দলের নেতৃত্বে থাকা রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক।
দলের সদস্যসচিবের দায়িত্ব নেওয়া নুরুল হকের কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চান, তাঁদের নতুনত্ব কী। জবাবে নুরুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে বড় দুটি দলের রাজনীতি পরিবারকেন্দ্রিক। কারও বাবার পরে মেয়ে, কারও স্বামীর পরে স্ত্রী। আমাদের দল কখনো রেজা কিবরিয়া ও নুরুলের দল হবে না। এখানে গণতান্ত্রিক উপায়ে পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক হবে। আমরা গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের কথা বলছি।’
গণতান্ত্রিক এই লড়াইয়ে জনগণের ‘ভোটের অধিকার’ পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে বড় করে দেখছেন গণ অধিকার পরিষদের নেতারা। এই লড়াইয়ের কর্মকৌশল কেমন হবে, তা নিয়েও কথা বলেছেন তাঁরা।
মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে এখন যে প্রধানমন্ত্রী আছেন, ওনার শিক্ষা নেব। উনি যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৯১ সালে কাজ করেছেন, আমরা সেভাবে অগ্রসর হওয়ার চিন্তা করছি। যাঁরা বাংলাদেশের জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করতে রাজি আছেন, আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলব, তাঁদের সঙ্গে কাজ করব। এ ব্যাপারে কারও আপত্তি থাকলে থাকতে পারে, তাতে আমাদের কিচ্ছু করার নেই।’
নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে গণ অধিকার পরিষদ মাঠে নামবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নিয়ে আন্দোলন করাকে আমি এতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। আসল কথা হলো, আমরা একটা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই। জাতিসংঘের পরিচালিত একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা চাই। এটা ছাড়া নির্বাচনে নামার কোনো মানে হয় না। যারা আগে প্রতারণা করেছে দুবার (২০১৪ ও ২০১৮ সালে), তারা তৃতীয়বার যে প্রতারণা করবে না, আমি এটা ভরসা করি না। সুতরাং আমরা প্রতারকদের নির্বাচনে যাব না, এটা পরিষ্কার।’
