রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রংধনু মডেল স্কুলে নানা আয়োজনের মাধ্যমে ঋতু রাণী হেমন্তকে বরণ করে নেয়া হলো। রোববার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় থেকে হেমন্ত বরণ উৎসব শুরু হয়ে চলে সকাল ১০টা পর্যন্ত।
এদিন রংধনু মডেল স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পেশার মানুষের ও জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলে। মুহুর্তেই যেনো মনে হয় কোন এক গ্রামের মেঠো সবুজ প্রকৃতিতে আমরা ফিরে গেছি।
তাদের যেসকল গ্রাম্য প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছে সেগুলো হলো- জেলে, ঢেকি দিয়ে ধান ভাঙা, রোদে ধান শুকানো, কুলা দিয়ে ধান ঝাড়া, মাঠে গরু নিয়ে রাখাল, মাটির শানকিতে পেয়াজ মড়িচ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়া, কৃষকের ধান কাটা ও গ্রাম্য নাচ ফুটিয়ে তোলে।
রংধনু মডেল স্কুলের হাজারো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সারিবন্ধভাবে মন্ত্রমুগ্ধের মতো হেমন্ত বরণের বর্ণাঢ্য এই আয়োজনটি উপভোগ করেন।
সাদার মায়া আর মন মাতানো সুবাসে ছেয়ে থাকা শিউলি ফুল যখন আপনার আঙিনায় উজার হয়ে পড়ে থাকে তখনই হেমন্তের শুরু! শুধু কি শিউলি ফুল? দোলনচাঁপার হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া সুগন্ধ আমাদেরকে হেমন্ত কালে আবদ্ধ করে রাখার জন্য যথেষ্ট। সাদার পবিত্রতা আর সুবাসে মোহিত হয়ে চলুন হেমন্ত কালকে বরণ করে নেই। ঋতু রানী হেমন্ত এমনিতেই তো আর রানীর মুকুট পায়নি। তার এমন প্রাচুর্য্যের ঢের তাকে এনে দিয়েছে এই খ্যাতি।
শরৎকাল বর্ষার কিছুটা পরে আসে। শরতের শেষ ভাগে এসে বৃষ্টি কিছুটা কমতে থাকে। সারি সারি মেঘ ভেসে বেড়ানো আকাশের গায়ে এসে পড়ে কুয়াশার আলতু স্পর্শ। হেমন্তের শুরুটা সেখান থেকেই। তবে শহরে হেমন্তের ঋতুর বৈশিষ্ট্য কিছুটা ভিন্ন। দিনগুলো একটু একটু করে কীভাবে যেন ছোট হয়ে আসে। বেলা পড়ে গেলেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে দ্রুত। রোদও হারিয়ে ফেলতে থাকে তার তেজ। এসব দেখেই সকলের অনুভব হয় বদলে যাচ্ছে ঋতু। হেমন্ত চলে এসেছে। মনমুগ্ধকর এই ঋতুতে চাইলে আপনি অনেক কিছু করে সময় কাটাতে পারেন। যে কারণগুলোর জন্য হেমন্ত কাল সকলের কাছে প্রিয়।
মন জুড়িয়ে যাওয়া সৌন্দর্যের বর্ণনা দেয়া কি সহজ? মোটেও না। রঙ নিয়ে এমন নিখুঁত খেলা খেলবার ক্ষমতা কেবল প্রকৃতিরই আছে। আকাশের এই সৌন্দর্য যেন পৃথিবীর বাকী সবকিছুকেই হার মানায়। এমন ঝলমলে প্রাণবন্ত আকাশ যে কারও মন মূহুর্তেই ভালো করতে পারে। মেঘের রাজ্যে টুকরো টুকরো নীলকে হারিয়ে যেতে দেখবার জন্য এই হেমন্ত কাল সেরা।
কাশফুলে যেমন ছেয়ে যায় এই মাটি, তেমনি সাদা মেঘে ভরে যায় আকাশ। মেঘের ভেলায় বাস্তবে হারিয়ে যেতে ঘুরে আসুন খোলা মেলা কোন জায়গা থেকে, যেখান থেকে দূরের আকাশও যেন মনে হবে বেশ কাছের। আর এমন উজ্জ্বল দিন যখন পূর্ণিমা রাতে ঢলে পরে সেই দৃশ্য মনে ছাপ ফেলার জন্য যথেষ্ট।
রংধনু স্কুলের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ঋতুর রাজকে সবাই বরণ করে কিন্তু ঋতুর রাণীকে তেমন ভাবে কেউ বরণ করেনা। তাই আগামী প্রজন্মকে দেশের ছয়টি ঋতুর সাথে পরিচিত করতে আমরা এই আয়োজন করে থাকি। ঋতুর রাণীকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে আজ বরণ করছি। আগামীতেও আমরা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখবো।
স্কুলের অভিভাবক নাজমুল আলম নাহিদ বলেন, আমরা ছোট বেলায় গ্রাম বাংলার কৃষকের ঘরে ঘরে এমন আয়োজন দেখলেও এখন আর দেখা যায়না। তাই নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে এই ঋতুর পরিচিতি দেখে আমরা অনেক খুশি।
পঞ্চম শ্রেণী শিক্ষার্থী রুপকথা বলেন, আমরা কখনই এমন আয়োজন দেখিনা। আজ হেমন্ত ঋতুকে বরণ করতে দেখে আমরা অনেক আনন্দিত। আমরা চাই আগামীতেও এমর আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
শাহজাদপুর পৌর মেয়র মনির আক্তার খান তরুলদী বলেন, ইট পাথরের শহরে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে। কখন কোন ঋতুর আগমন তা এই প্রজন্ম মনে রাখেনা। বাংলার জাতীয়বাদ, বাংলার কৃষ্টি কালচার ধরে রাখতে ও আমাদের শিকরের কাছে পৌছে দিতে এই হেমন্ত উৎসব অনেক গুরুত্বপুর্ন। আমি আজ আনন্দিত এমন আয়োজন দেখে। আমরা চাই প্রতিটি ঋতুকেই যেন এমন ভাবে পরিচিতি করে দিতে এমন আয়োজন অব্যাহত থাকে।
