শাহজাদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: কঠোর নিরাপত্বা, যথাযথ ভাবগম্ভীর্য, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব সারদীয় দুর্গাপুজার প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) বিকাল থেকে শুরু হয় শাহজাদপুর উপজেলার ৭৪টি মন্দিরে দেবী দুর্গার বিসর্জনের প্রক্রিয়া। প্রতিমা বিসর্জন দেখতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলামানদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।

 

প্রতিমা বিসর্জন সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে করার লক্ষ্যে শাহজাদপুর উপজেলার প্রশাসন ও থানা পুলিশের নির্দেশায় বিকাল ৫টার পর থেকে শাহজাদপুর পৌর শহরের করতোয়া নদীর থানারঘাটে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। প্রতিটি মন্দির থেকে পর্যায়ক্রমে প্রতিমা নিয়ে রাস্তায় বেড় হয়।

 

প্রতিমা বিসর্জনের ফলে থানারঘাট সড়ক থেকে নতুনমাটি সড়ক পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এতে দুর্ভোগে পরেন প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নেওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ও এই সড়কে চলাচলরত যানবাহনগুলোকে।বিকাল ৫টায় প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়ে সমাপ্ত হয় রাত সাড়ে ১০টায়।

 

এর আগে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে শাহজাদপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে থানার ঘাটের রাস্তার উন্নয়ন কাজ করা হয় এবং আলোর ব্যাবস্থা করা হয়।

 

প্রতিমা বিসর্জনের সার্বিক বিষয় সরেজমিনে উপস্থিত থেকে তদারকি করেছেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা, শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল হোসেন ও থানা নির্বাহী অফিসার শাহিদ মাহমুদ খান।

 

শাহজাদপুর থানার অফিসার ইন্চার্জ শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, দুর্গাপুজা শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে শাহজাদপুর উপজেলার প্রতিটি মন্দিরে দিনরাত ২৪ ঘন্টা পুলিশ মোতায়েন ছিলো। এসময় প্রতিটি মন্দিরে কঠোর নিরাপত্বা বলয় গড়ে তোলা হয়েছিল।

 

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, শাহজাদপুরে কঠোর নিরাপত্বা ব্যবস্থা, উৎসবমূখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়েছে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দু্র্গা উৎসব। দুর্গাপুজার এই কয়েকদিন উপজেলার প্রতিটি মন্দিরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্বা নিশ্চিতে কাজ করেছেন।

 

তিনি আরো বলেন, শাহজাদপুর উপজেলার প্রতিটি ধর্মের মানুষ একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেছে বসবাস করে থাকে। এই উপজেলায় কোন মন্দিরেই কোন ধরণের বিশৃংখলার ঘটনা ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *