প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাপিয়ে যেতে চাই: বাঁধন

বিনোদন ডেস্ক- ওমকারা, কামিনে, সাত খুন মাফ, হায়দার সিনেমাগুলোর জন্য বলিউডে তো বটেই, বাংলাদেশেও পরিচিত বিশাল ভরদ্বাজ। বলিউডের নিয়মিত ঘরানার নির্মাণ থেকে বিশালের নির্মাণ বরাবরই আলাদা। তাই বিশালকে দর্শকরা মাপেন আলাদাভাবেই।

 

এবার তিনি পরিচালনা করছেন সিনেমা খুফিয়া। নেটফ্লিক্সের জন্য সিনেমাটি নির্মাণ করছেন তিনি। এতে অভিনয় করছেন বলিউডের টাবু, আলী ফজল, আশিস বিদ্যার্থী, ওয়ামিকা গাব্বিসহ অনেকে।

 

এ দেশের মানুষের জন্য গর্বের বিষয় হলো, সিনেমাটিতে অভিনয় করছেন দেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এর শুটিংয়ের জন্য এখন দিল্লি অবস্থান করছেন অভিনেত্রী। সেখান থেকেই অনলাইনে তিনি কথা বলেন গণমাধ্যমের সঙ্গে।

 

সিনেমায় যুক্ত হওয়ার কারণ

চরিত্রের মেয়েটাকে আমার পছন্দ হয়েছে। আর গল্পটা খুবই ইন্টারেস্টিং। সত্যি বলতে যেই মাপের পরিচালক সেটাও এখানে ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। ভালো ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করলে অনেক কিছু শেখা যায়। সাদের (আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ) সঙ্গে কাজ করে এটা বুঝেছি।

 

আর সিনেমার চিত্রনাট্যের বিশালের জুরি নেই। উনি টিপিক্যাল সিনেমা বানান না। এমন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজের সুযোগ মিস করতে চাইনি।

 

ইদানীং অনেকে আমাকে বলার চেষ্টা করছেন, আমাকে সব ভালো কাজ করতে হয়। সবসময়ই ভালো কাজ করতে হয়। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল-কয়টা ভালো কাজ এখন হয়? কাজ করতে গিয়ে হয়তো খারাপ কাজও নির্বাচন করতে পারি। সাফল্য, ব্যর্থতা মিলিয়েই জীবন, কাজ করে যেতে চাই।

 

যেমন
…শুধু অ্যাক্টিং বেউজড কাজটা করতে চাই না। নিজেকে এক্সপ্লোর করতে চাই। ভুলও আমার, সাফল্যও আমার। সবাই যখন বলছে, তুমি এভাবে করো, এটা করো না। আমি বলছি, আমি এখনও ফেইল করতে পারি। একটার পর একটা ভালো সংবাদ দেওয়ার জন্য বাঁধনকে কতো কিছুর মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে। অদ্ভূত জীবন আমার।

 

আমরা মানুষ, আমাদের ভুল হবে, জীবনে ব্যর্থতা থাকবে। আমার মনে হয় গত তিন বছরে মানুষ হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে ঢুকেছি। নিজেকে শুদ্ধ করতে প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাপিয়ে যেতে চাই। আমি ভুল করব, ব্যর্থতা আসবে। এটা মেনে নিতেই এগিয়ে যেতে হবে। সবাই বলে, এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু পড়ে গেলে কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়-সেটা কেউ বলে না। আমি আমার মেয়েকে বলি, কারো সামনে পড়ে গেলে কীভাবে দাঁড়াতে হবে-এটাই আমাদের জীবনের মূল চ্যালেঞ্জ।

 

আমাদের লাইফ এরকমই হবে। মানুষ সাকসেসফুল অনেক সময় ফেরোসাস হয়। তখন আর মাথা ঠিক রাখতে পারে না।

 

টাবুর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা

উনাবে আমি ভীষণ পছন্দ করি। তার অভিনয় থেকে জীবনদর্শন-সবই আমার পছন্দের। সিনেমার শুটিংয়ের আগে কখনো উনার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। দেখা হতেই উনি বুঝতে পারছিলেন, আমি খুব খুশি হয়েছি। উনি জানতেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। কুশল বিনিময় শেষে আমাকে বললেন, বাংলাদেশে আমার একজন বান্ধবী আছেন, অভিনেত্রী চম্পা। এটা শুনে আমি খুব খুশি হয়েছি। পরে একসঙ্গে চিত্রনাট্য পড়লাম। আমার বেশিরভাগ দৃশ্যই তার সঙ্গে।

 

বলিউডে কাজের অভিজ্ঞতা

এখানে সবাই খুব প্রফেশনাল। এখানে তাদের ম্যানেজমেন্ট খুব ভালো। একজন অ্যাক্টরকে কীভাবে ট্রিট করতে হয় সেটা ওরা ভালো করে জানে। ওরা খুব সুসংগঠিতভাবে কাজ করে যা বাংলাদেশে কিংবা কলকাতায় পাইনি। আর ডিরেক্টর তো ‘ডাউন টু আর্থ’। তার মতো বড় মাপের একজন এতো সিম্পল!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *