নজর২৪ ডেস্ক- বিভিন্ন সময় বিজ্ঞান ও ইসলাম নিয়ে নানা ধরনের উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে আলোচিত মুফতি কাজী ইব্রাহীম আদালতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমান এ আদেশ দেন।
তার আগে মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ানের এজলাসে নেয়া হয় মুফতি ইব্রাহীমকে। শুরু হয় জামিন ও রিমান্ড শুনানি। শুনানির সময় মহানগর হাকিম কাজী ইব্রাহিমের কাছে তার প্রচারিত বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চান।
মুফতি ইব্রাহীম আদালেতে বলেন, ‘আমার বক্তব্যের ব্যাখ্যা হলো, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে মুক্ত করতে ৩০ লক্ষ শহীদ তাদের বুকের তাজা র.ক্ত ঢেলে দিয়েছেন, কিন্তু আজও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। আমার স্বপ্ন, সরকারপ্রধান এ দেশের আলেম সমাজকে ডেকে একদিন বলবেন রাষ্ট্র চালানোর জন্য।
‘কারণ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় যারা ভালো মানুষ তারা নির্যাতনের শিকার হন। আমরা এই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় জুলুম নি.র্যা.তন চাই না। এই দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু তার শেষ র.ক্তবিন্দু বিসর্জন দিয়েছেন।’
এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুকে অনেক ভালো মানুষ ও দেশপ্রেমিক বলে অভিহিত করে চোখ মুছতে থাকেন।
ইব্রাহীম কিছুক্ষণের জন্য এজলাস কক্ষকে ওয়াজ মাহফিলের ময়দান বানিয়ে ফেলেন তিনি। সেই সঙ্গে নিজেকে দেশপ্রেমিক দাবি করে তার বর্ণনাও দেন।
এমন সময় বিচারক তাকে থামিয়ে দেন। সেই সঙ্গে রিমান্ডের বিষয়ে বুঝিয়ে বিচারক বলেন, ‘রিমা.ন্ড মানে নি.র্যাতন নয়। আপনাকে কিছু তথ্য জিজ্ঞেস করা হবে, আপনি যা জানেন তাই উত্তর দেবেন।’
তখন ইব্রাহীমের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মাননীয় আদালত, বাংলাদেশের রি.মা.ন্ডে কী হয় তা সবারই জানা আছে। রি.মা.ন্ড ফেরত আসামিরা হেঁটে আদালতে উঠতে পারেন না।’
এরপর আদালত কাজী ইব্রাহিমের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। যেহেতু কাজী ইব্রাহীম আলেম মানুষ। সেহেতু তাকে ভদ্রতার সঙ্গে আনা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত।
এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা করেন। এর আগে একই থানায় তার বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা হয়। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর লালমাটিয়ার জাকির হোসেন রোডের বাসা থেকে তাকে আটক করে ডিবির একটি দল।
