ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডির বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অভিযোগ

নজর২৪ ডেস্ক- ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের (প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান) বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী।

 

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে গুলশান থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী আরিফ বাকের।

 

তিনি জানান, ইভ্যালির অনলাইন প্লাটফর্মে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকার পণ্য অর্ডার করেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পাননি তিনি। নিরুপায় হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন তিনি।

 

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অভিযোগকারী আরিফ বাকের ও তার বন্ধুরা চলতি বছরের মে ও জুন মাসে কিছু পণ্য অর্ডার করেন। পণ্যের অর্ডার বাবদ সব মূল্য বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন তারা। পণ্যগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারি ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান সমপরিমাণ টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিল।

 

কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে পণ্যগুলো ডেলিভারি না পাওয়ায় বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে ফোন করা হয়। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করে অর্ডার করা পণ্যগুলো পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। একপর্যায়ে ইভ্যালি পণ্য প্রদান ও টাকা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির ধানমন্ডির অফিসে যাই। ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন।

 

একপর্যায়ে অফিসের অভ্যন্তরে থাকা ইভ্যালির রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার রুম থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন এবং আমাদের পণ্য অথবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। আমাদের ভয়-ভীতি ও হুমকিসহ চরম দুর্ব্যবহার করে, যার ফলে আমরা চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিনযাপন করছি এবং পণ্যগুলো বুঝে না পাওয়ায় আমি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

 

এ বিষয়ে গুলশান থানার এসআই হাফিজুর রহমান বলেন, ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও এমডির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ নিয়ে একজন ভুক্তভোগী থানায় আসেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির অফিস ধানমণ্ডি থানা এলাকায় হওয়ায় ভুক্তভোগী নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি মামলাটি কোথায় করবেন। যেহেতু অফিসটি ধানমন্ডিতে নিয়ম অনুযায়ী সেখানেই মামলাটি হওয়ার কথা। তবে ভুক্তভোগীর বাসা গুলশানে হওয়ায় তিনি এখানে পরামর্শ করতে এসেছিলেন। অভিযোগের একটি কপি আমরা রেখে দিয়েছি এবং তাকে বলেছি, আজ থানায় আসতে তখন সিনিয়র অফিসাররা থাকবেন, এ বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *