ইভ্যালির টাকা কোথায় গেছে তা জানা যায়নি: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

নজর২৪, ঢাকা- অনলাইনভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান (ই-কমার্স) ইভ্যালিসহ ১০টি ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিষয়ে কোনো দায় নেবে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সচিবালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ডিজিটাল ই-কমার্স সেলের প্রধান হাফিজুর রহমান এসব জানান।

 

প্র‌তিষ্ঠানগু‌লো হ‌লো- ইভ্যালি, ই–অরেঞ্জ, আলেশা মার্ট, ধামাকা, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, কিউকম, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট ও নিড ডটকম ডটবিডি।

 

হাফিজুর রহমান বলেন, ইভ্যালির টাকা কোথায় গেছে তা জানা যায়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও তদন্ত করছে। টাকার যোগান নিশ্চিত না হলে, সহসাই গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেয়া সহজ হবে না।

 

এছাড়াও তিনি বলেন, এই দশ ই-কমার্সের বিরুদ্ধে গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য না দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি মার্চেন্টের কাছ থেকে পণ্য গ্রহণ করে তাদেরকে ওইসব পণ্যের মূল্য পরিশোধ না করারও অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বশেষ আর্থিক অবস্থা, ক্রেতা ও মার্চেন্টদের নিকট মোট দায়ের পরিমাণ এবং কোম্পানির নিকট স্থায়ী ও চলতি মূলধনের পরিমাণসহ কোনো অর্থ অন্যত্র সরিয়ে থাকলে তারও তথ্য প্রদানের নির্দেশ দেয়া হল।

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইভ্যালিসহ ১০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে থার্ড পার্টি অডিটর নিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জানতে আলাদা নিরীক্ষা করার সুপারিশ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ে ইভ্যালি। গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দেনার পরিমাণ ৪০৩ কোটি টাকা। আর প্রতিষ্ঠানটির চলতি সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। ৩৩৮ কোটি টাকাই কোম্পানির কাছে নেই।

 

অন্যদিকে গ্রাহকের এক হাজার ১০০ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের দায়ে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছে ই-অরেঞ্জের মালিকপক্ষ। অন্যদিকে গ্রাহকরা তাদের টাকার জন্য ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। ই-অরেঞ্জের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ায় গ্রাহকের একটি বড় অংশ দুষছে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্ত্তুজাকে।

 

তালিকায় থাকা অন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। তাদের কাছেও কোটি কোটি টাকা আটকে আছে গ্রাহকের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *