নজর২৪, ঢাকা- মাদক মামলায় অভিনেত্রী পরীমনিকে তিনবার রিমান্ড দেয়ার মতো আদেশ ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলছে, আইনি ভিত্তি ছাড়া পুলিশ কারো রিমান্ডে চাইতে পারে না। পুলিশ বিভাগের বোঝা উচিত, মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান।
পরীমনিকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক আবেদনের লিখিত আদেশে বুধবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব কথা বলে।
পাঁচ পৃষ্ঠার লিখিত আদেশে হাইকোর্ট বলেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ভঙ্গ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরীমনিকে তিনবার রিমান্ডে নিয়েছেন। যেখানে প্রথমবারই রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার যথেষ্ট সময় পেয়েছেন।
হাইকোর্ট আরও বলেছে, পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বোঝা উচিত, মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। আইনি ভিত্তি ছাড়া পুলিশ রিমান্ড চাইতে পারে না, অথচ এ মামলায় পুলিশ তাকে তিনবার রিমান্ডে নিয়েছে, যা ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ আগস্ট প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমণি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র্যাব। এ সময় পরীমণির বাসা থেকে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। পরে গত ৫ আগস্ট র্যাব-১ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য আইনে পরীমণি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা দায়ের করে।
এরপর তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
পরে গত ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে পরীমণির জামিন আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত। তবে নতুন করে তার জামিন শুনানির জন্য ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করে পরীমণিকে জামিন দেন বিচারিক আদালত।
