নজর২৪ ডেস্ক- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াতে ইসলামীকে স্বাধীনতাবিরোধী বলায় আদালতে হট্টগোল এবং মারমুখী অঙ্গভঙ্গী করেছেন দলটির ৯ নেতার আইনজীবী।
সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ নেতাকে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তারের আদালতে তোলা হয়। খবর- নিউজ বাংলার
তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু জামায়াতকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ বলে তার বক্তব্য রাখার সময় জামায়াত নেতাদের আইনজীবীরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে।
জামায়াত নেতাদের অর্ধশতাধিক আইনজীবী ‘সেম সেম’ (লজ্জা, লজ্জা) বলে চিৎকার করতে থাকেন। বিচারক এ সময় আইনজীবীদের চুপ করতে বলেন। তারা বিচারকের কথায় কর্ণপাত না করে রাষ্ট্রপক্ষের এই প্রবীণ আইনজীবীর প্রতি মারমুখী অঙ্গভঙ্গি করেন।
পরে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ও আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে তারা শান্ত হন। আব্দুর রাজ্জাক পরে তাদের আইনজীবীদের কৃতকর্মের জন্য আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এদিকে হট্টগোল শেষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম কামাল উদ্দিন আদালতকে জামায়াত ইসলামীর গঠনতন্ত্র পাঠ করে শোনান। তিনি বলেন, ‘এই জব্দ তালিকায় যা লেখা আছে তাতে রিমান্ড হয় না।‘
আইনজীবী শিশির মনির তার শুনানিতে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন করে না। তাদের কোনো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ নয়। তারা এক সময় এই এ দেশের সরকারের অংশ ছিল। মিয়া গোলাম পরোয়ার খুলনা থেকে এবং হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মত লোক মিটিং বা সভা করতে পারেন, তাতে কোনো বাধা নাই, বিধিনিষেধও নাই।‘
তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামী করার কারণে আসামিদের সবাইকে ১০ রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়েছে।’
এ সময় আসামিরা উচ্চস্বরে হাসতে থাকেন এবং বলতে থাকেন তারা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জামায়াতের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করবেন।
এ সময় শিশির মনির বলেন, ‘আমাদের সবাইকে রিমান্ডে নেয়া হোক মাননীয় আদালত। ইনাদের যদি অন্যায়ভাবে রিমান্ডে নেয়া হয় তাহলে আমরা সবাই রিমান্ডে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
পরে বিচারক ৪ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জামায়াতের নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহের ষড়যন্ত্র এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে তাঁরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন, এমন খবর পেয়ে আমরা সেখানে অভিযান চালাই।’
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলীয় একটি বৈঠকে অংশ নিতে গেলে গোলাম পরওয়ারসহ নেতাদের ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
