নজর২৪ ডেস্ক- আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে গ্রাহকদের সব পণ্য ডেলিভারি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল। এছাড়া শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে গত এক মাসে প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম সম্পর্কে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া এক পোস্টে রাসেল লিখেছেন, ‘আগামী শনিবার লাইভে এসে বিগত এক মাসের অগ্রগতি, ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলব। আমার শুরু থেকেই একটি বিশ্বাস যেহেতু ইভ্যালির একটি শক্তিশালী ইকমার্স প্রতিষ্ঠান, সময় পেলে সকল সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা বেশ কিছু ক্ষেত্রেই আমাদের পরিকল্পনা মতোই এগিয়েছি। আশা করি সময়ের মধ্যেই সব সফল করতে পারব। আমরা আগামী পাঁচ মাসের মাঝেই সকল অর্ডার ডেলিভারি করব ইনশাল্লাহ। লাইভ: শনিবার রাত ১১টা।’
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর দুই থেকে তিন মাসের আগাম সময় নিয়ে প্রায় অর্ধেক মূল্যে পণ্য সরবরাহের লোভনীয় বিভিন্ন ‘অফার’ দেওয়া শুরু করে ইভ্যালি। তাতে অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, এসি, প্রাইভেটকারসহ নানা পণ্যের ক্রেতাদের সমারোহ ঘটেছিল ইভ্যালিতে।
স্বল্প মূল্যের এসব পণ্যের জন্য টাকা নেওয়া হতো অগ্রিম। কিন্তু কিছু ক্রেতাকে পণ্য দিয়ে বাকিদেরকে অপেক্ষায় রাখার কৌশল নিয়ে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর মন্ত্রণালয় ইভ্যালির বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।
এদিকে বৃহস্পতিবার(২৬ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইভ্যালির পক্ষ থেকে জমা দেওয়া দায়-দেনার হিসাবে দেখা যায়, দুই লাখ ১৪ হাজার গ্রাহক ইভ্যালির কাছে পণ্য কেনার জন্য বুকিং দিয়েছেন। গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত বুকিং বাবদ গ্রাহকরা ইভ্যালির কাছে ৩১০ কোটি টাকা পাবেন।
সূত্র বলছে, দুই লাখ ১৪ হাজার গ্রাহকের মধ্যে অধিকাংশই তাদের মূল টাকা ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে ইভ্যালির কল সেন্টার থেকে গ্রাহকদের বলা হচ্ছিল, অচিরেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির সংকট আরও বাড়ছে। সর্বশেষ ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যানের ব্যাংক হিসাব তলবের পর যমুনা গ্রুপও প্রতিশ্রুত বিনিয়োগ থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
যমুনা গ্রুপ আনুষ্ঠানিকভাবে ইভ্যালির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা না দিলেও আপাতত প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করবে না। এমন পরিস্থিতিতে ইভ্যালির অধিকাংশ কর্মী চাকরি খুঁজতে শুরু করেছেন। অবশ্য অধিকাংশ কর্মী ঈদের আগে বেতন বোনাস কিছুই পাননি। ঈদের পরেও তাদের বেতন হয়নি।
