নজর২৪ ডেস্ক- করোনা অতিমারির শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞরা আরটি-পিসিআরসহ অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি টেস্ট-এর কথা বলে আসছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালুর ঘোষণা দেয় সরকার। ২৪ জানুয়ারি সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, ‘অনেক দিনের দাবি ছিল অ্যান্টিবডি টেস্টের। আজ যখন বললাম তখন ধরে নিন এটা চালু হয়ে গেলো।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন কথার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর ও ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরকে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তারপরও চালু হয়নি অ্যান্টিবডি টেস্ট।
এমনকি ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর অ্যান্টিবডি নীতিমালাও চূড়ান্ত করেছিল ২০২০ সালের জুনে। এ বছরের ২৪ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও ঘোষণা দিয়েছিল কোভিড ১৯-এর অ্যান্টিবডি টেস্ট চালু করা হবে। কিন্তু মন্ত্রীর ঘোষণার আট মাস পরও চালু হয়নি এ পরীক্ষা
কেন চালু হচ্ছে না এ পরীক্ষা? এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন, বিষয়টির অনুমোদন হয়নি।
অ্যান্টিবডি টেস্ট সময়ের দাবি
এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরও কেন এ টেস্ট চালু হচ্ছে না জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক কর্মকর্তা পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মুখের কথা কি সরকারি অর্ডার? সরকার অনুমোদন দিলো কখন?’
তিনি আরও বলেন, ‘লাখ লাখ টিকা দেওয়া হয়ে গেলো, অথচ অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু করতে পারলাম না। এই টেস্ট করা হলে যাদের দরকার নেই, তাদের বাদ রেখে বাকিদের টিকা দেওয়া যেত।’
‘অ্যান্টিবডি টেস্ট এখন সময়ের দাবি’ এমনটা বলেন কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা।
তার মতে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি মনে করে এখানে দুর্বৃত্তায়নের সুযোগ আছে, তা হলে তারা অন্তত আইইডিসিআর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এসব জায়গায় করার সুযোগ অন্তত দিক।
সাধারণ মানুষের জন্য অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু হবে কিনা প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা বলেন, ‘তিনি (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) মৌখিকভাবে বলেছিলেন। অফিসিয়ালি এই অনুমতি দেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, দেশে এখন শুধু গবেষণার জন্য যৎসামান্য অ্যান্টিবডি টেস্ট করছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
