মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, শিক্ষাউপবৃত্তিসহ অন্যান্য ১৩৬জন ভাতাভোগীদের টাকা গেছে অজ্ঞাত মোবাইল নাম্বারের নগদ অ্যাকাউন্টে।
শুধু মির্জাপুরে নয়, এ চিত্র সারা দেশেই। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই অন্যের মোবাইলে টাকা চলে যাওয়ার অভিযোগ এসেছে। শুধু ভাতাভোগী নয়, এ পন্থায় বেহাত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকাও। টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তাদের দোষারোপ করছেন কয়েকজন ভাতাভোগীরা।
জানা গেছে, এই উপজেলায় বিধবা, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও শিক্ষাউপবৃত্তিসহ ১৩৬জনের ভাতাভোগীদের টাকা যাচ্ছে অজ্ঞাত অপরিচিত মোবাইল নাম্বারের নগদ অ্যাকাউন্টে। ভাতার উপকারভোগীরা বেশিরভাগই বৃদ্ধ মানুষ। এসব ভাতা আগে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হতো। কিন্তু ব্যাংকিং সিস্টেমে উপকারভোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো। কারণ বেশির ভাগ ভাতাভোগী বৃদ্ধ, তারা চলাফেরা করতে পারে না।
এ কারণে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদের মাধ্যমে সবার নগদ অ্যাকাউন্ট নাম্বারে দিয়ে দেওয়া হবে এ সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যার ফলে তারা ঘরে বসেই টাকা তুলতে পারবে। কিন্তু একটি প্রতারকচক্র মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করে ভাতাভোগীদের টাকা নিয়ে যাচ্ছে। নাম্বারগুলো বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। টাকা না পাওয়ার কারণে বৃদ্ধ ভাতাভোগীদের টাকার জন্য সমাজসেবা অফিসের সামনে ভিড় করে দেখা গেছে।
আব্দুল লতিফ নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, সমাজসেবা অফিসে একাউন্ট থেকে টাকা উঠাতে যাই। কিন্তু যাওয়ার পর কর্মকর্তা আমাকে বলেন আমার একাউন্ট থেকে টাকা উঠানো হয়েছে। অথচ টাকা উঠানোর ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।
যখন ব্যাংকে টাকা দিত তখন আমাদের টাকা কেউ নিতে পারত না। নুরুল ইসলাম নামের আরেক ভাতাভোগী বলেন, টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ নিয়ে সমাজসেবা অফিসে গেলে ওখানকার লোকজন বলেন একাউন্ট থেকে আমি না হয় আমার পরিবারের কোনো সদস্য টাকা উঠিয়েছি। কিন্তু আমরাতো টাকা কিভাবে উঠাতে হয় সেটাই জানিনা।
সমাজসেবা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় ৪টি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ হাজার ৯২০ জন ভাতাভোগী রয়েছেন। এরমধ্যে ৩৬ জনের একাউন্ট থেকে টাকা উধাও এবং ১শত জনের একাউন্টে ভুল নাম্বারসহ নানা জটিলতার কারণে টাকা উঠাতে পারছেন না ভাতাভোগীরা।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি সমাজসেবা অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও নগদ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন তাদের ব্যাপারে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।
