সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত মহিলা আওয়ামী লীগ কর্মী রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গঙ্গা নারায়ন গ্রামের রেজিয়া বেগমের পরিবারের খবর এখন আর কেউ রাখে না।
অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় ২০০৫ সালের মার্চ মাসে মারা গেছেন রেজিয়ার বৃদ্ধ পিতা আফাজ উদ্দিন। তার আগে মারা যান তার মা আমেনা বেগম। তবে প্রধানমন্ত্রী দু দফায় তাদের সোয়া ৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। স্বজনদের একটাই দাবি হত্যাকান্ডের ঘাতকদের ফাঁসি কার্যকর করা হোক।
শনিবার দুপুরে নিহত রেজিয়ার বাড়িতে গেল নিহত রেজিনার ছোট ছেলে মস্তুল ওরফে নুরন্নবী জানান ২০০৪ সালের ১৭ আগষ্ট নারকীয় ওই হামলায় রংপুরের রেজিয়া বেগম সহ ২২জন প্রাণ হারান। স্বজনরা জানান কাউনিয়া উপজেলার গঙ্গানারায় গ্রামের আফাজ উদ্দিনের মেয়ে রেজিয়া বেগম ১৯৯০ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকা পাড়ি জমান।
সেখানে আগারগাঁয়ের এক বস্তিতে থেকে ঢাকার ভারতীয় ভিসা অফিসে ছবি লাগানোর কাজ করতেন তিনি। সেখানে মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী আয়শা মোকারমের সাথে তার পরিচয় হয়। তার হাত ধরেই রেজিয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। নিয়মিত দলের মিছিল মিটিংসহ সকল কর্মকান্ডে সক্রিয় ভাবে অংশ নিতেন তিনি।
২১ আগষ্ট দুপুরে সমাবেশ স্থলের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ নেত্রী আয়েশা বেগমের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হলে সেই মিছিলে রেজিয়াও ছিলেন ।তারা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। এরপর দুবৃর্ত্তদের ছোড়া গ্রেনেড হামলায় নিহত হন রেজিয়া । পরের দিন ছোট ছেলে মোস্তুল ওরফে নুরন্নবী লাশ সনাক্ত করে।
পরে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ওই বছরেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিহত রেজিনার পরিবারের জন্য দেয়া হয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর পর ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দেয়া হয় ৮ লাখ টাকা। এখন তাদের কোন অভাব নেই। তাদের চাওয়া শুধুই মায়ের বিচার।
রেজিয়ার বড় বোন আনোয়ারা বেগম বলেন, প্রতি বছর ২১ আগষ্টের ঘটনাগুলো টেলিভিশনের দেখি আর কাঁন্দি। বাড়িতে বসে শাড়ির আঁচলে দিয়ে বারবার বোনের ছবি মুছি।”
ছোট ছেলে মোস্তুল জানান, তারা পুরো পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতঞ্জ। তাদের আর কোন চাওয়া পাওয়া নেই এখন শুধুই বিচার চান ত্রাা ।তিনি জানান ঘাতকদের বিচার হলেই তার মায়ের আত্তা শান্তি পাবে।
বড় ছেলে হারুন অর রশিদ আক্ষেপ করে বলেন, ৪০ বছর পরে হলেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার হয়েছে। তার বিশ্বাস তার মায়ের হত্যার বিচারও পাবেন।
স্থানীয় বালা পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, রেজিয়ার পরিবারের প্রতি নিয়মিত খোঁজ খবর রাখা হয়। তার পরিবার যাতে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা পায় সে চেষ্টা তারা করে যাচ্ছেন। তিনি জানান দ্রুত ঘাতকদের বিচার শেষ করা উচিত।
