বাবা-মার কবরে শ্মশানের মাটি, হাউমাউ করে কাঁদলেন ‘ব্যর্থ’ শামীম ওসমান

নজর২৪ ডেস্ক- নারায়ণগঞ্জ নগরের মাসদাইরে পাশাপাশি মুসলমানদের কবরস্থান, খ্রিস্টানদের কবরস্থান ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্মশান। সম্প্রতি সিটি করপোরেশন কবরস্থানের পশ্চিমপাশে থাকা শ্মশানের পুকুর খনন, ঘাটলা নির্মাণ ও গাইড ওয়াল নির্মাণের জন্য এক কোটি ২০ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেয়। পুকুরটিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের লাশ পোড়ানো ছাই ফেলা হতো। এই পুকুর খননের উত্তোলিত মাটি ফেলা হয় পাশের কবরস্থানের বিভিন্ন কবরের ওপর। আর এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।

 

সোমবার দুপুরে শামীম ওসমান বাবা-মাসহ স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে এসে শ্মশানের পুকুর কেটে তোলা মাটি কবরগুলোর ওপর দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি কাঁদতে শুরু করেন।

 

তিনি বলেন, আমি একজন ব্যর্থ সন্তান। আমি আমার বাবা-মা-ভাই ও স্বজনদের কবরগুলোও রক্ষা করতে পারিনি। আমি ব্যর্থ বলেই শ্মশানের মরদেহ পোড়া মাটি দিয়ে আমার বাবা-মায়ের কবর ভরা হয়েছে।

 

এসময় তিনি বলেন, গত ২৭ জুলাই সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মায়ের কবর জিয়ারতের সময়ও স্বাভাবিক অবস্থা ছিল। সিটি করপোরেশনের নিয়োগকৃত ঠিকাদার কবরস্থানের পাশে শ্মশানের পুকুর খননসহ সংস্কার কাজ করতে গিয়ে কিছু জায়গায় প্রায় ৩ ফুট মাটি ফেলে ভরাট করায় অর্ধশতাধিক কবর সমতলে মিশে গেছে। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার কবরের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে।

 

শ্মশানের মাটি কবরস্থানে রেখে রীতিমতো টিলা বানিয়ে রাখা হয়েছে। শ্মশানের পুকুর কেটে মাটি দেওয়ায় শামীম ওসমানের দাদা খান সাহেব এম ওসমান আলী, দাদি জামিলা ওসমান, বাবা ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আবুল খায়ের মোহাম্মদ (একেএম) সামসুজ্জোহা, মা ভাষাসৈনিক নাগিনা জোহা ও বড়ভাই মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমানের কবর প্রায় সমতল হয়ে গেছে।

 

শামীম ওসমান অভিযোগ করেন, যারা এই কাজ করেছে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননাসহ ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কবরগুলো পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিটি করপোরেশনের প্রতি আহ্বান জানান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

 

শামীম ওসমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সন্তান হিসেবে আমি ব্যর্থ যে আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য হয়েও বাবা-মায়ের কবরের পবিত্রতা হেফাজত করতে পারিনি। সেই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরগুলোকে অবমাননার হাত থেকে রক্ষা করতে পারিনি। আপনারা কি সহ্য করবেন যে, আপনাদের মা-বাবার কবরে শ্মশানের মরদেহ পোড়া মাটি দিয়ে কেউ ঢেকে দিলে। ওই সময় শামীম ওসমান বারবার বলতে থাকেন আমি আমার বাবার ব্যর্থ সন্তান। নাহলে এ দৃশ্য আমার দেখতে হতো না।

 

তিনি বলেন, আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। তবে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। বাবা-মা-ভাই মারা যাওয়ার পর যেমন কষ্ট পেয়েছি আজও তেমন কষ্ট পেলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *